দুইয়ে দুইয়ে পাঁচ...

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৩০

সম্পাদকীয়

আজ ৬ আশ্বিন। তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি অতিক্রম করেছে। ঋতুবৈচিত্র্যের দেশে এমন হওয়ার কথা ছিল না। তারপরও হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে মেনে নিতে না পেরে বলছেন, ‘অস্বাভাবিক’। ব্যতিক্রম যে নেই তাও নয়। ব্যতিক্রমীরা বলছেন, পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে দুইয়ে দুইয়ে পাঁচ হয়েছে। শীতের আগমনবার্তা বহনকারী মাস ‘আশ্বিন’ তার চরিত্রের পরিবর্তন ঘটিয়ে দুইয়ে দুইয়ে পাঁচ বানিয়েছে। এক্ষেত্রে ‘আশ্বিনের’ কোনো দোষ নেই। দোষত্রুটি যেখানে যেটুকু আছে তার সবটুকুই আমাদের, অর্থাৎ মানব সম্প্রদায়ের। এই মানব সম্প্রদায়ই পৃথিবীকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে। ক্ষুদ্র সামষ্টিকের আকাশছোঁয়া ভোগবাদী চিন্তাকে বাস্তবায়িত করতে গিয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রাকে বদলে ফেলেছে। আর সে কারণেই এখন আর দুইয়ে দুইয়ে চার হচ্ছে না। আগামীতেও চার হওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে না। যা শোনা যাচ্ছে তা এর বিপরীত। অর্থাৎ দুইয়ে দুইয়ে পাঁচ।

গত বুধবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তথ্যটি আবহাওয়া অফিসের। বয়োজ্যেষ্ঠরা বলছেন, এ যেন এক অচেনা শরৎ। এমন আশ্বিন তারা দেখেননি কখনো। অসহ্য গরমে দিনের শুরু আর গরম বাড়িয়েই দিনের শেষ। কেবল আশ্বিনই নয়, এমন পৃথিবীর মুখোমুখি হতে হবে এমনটাও ভাবতে পারেনি কেউ। তা না হলে সর্বহারার পক্ষের রাষ্ট্র হয়েও কীভাবে সেই রাষ্ট্র সর্বহারার বিপক্ষে দাঁড়াতে পারে! সমাজতান্ত্রিক দর্শনে বিশ্বাসী একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র চীন কীভাবে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পাশে দাঁড়াতে পারে! মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনসমষ্টির পাশে না দাঁড়িয়ে হন্তারক সরকারকে সমর্থন করতে পারে! যদি ‘দুইয়ে দুইয়ে চার’—এই যোগফল বরাবরের মতো থাকতো তাহলে হয়ত এমন অপদৃশ্যের মুখোমুখি হওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়ত না। ডিজিটাল যুগে, ডিজিটাল হিসাবে, ডিজিটাল বিশ্বের সবকিছুই যেন হিসাবের বাইরে।

এ পর্যন্ত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী নিজেদের জীবন বাঁচাতে সর্বস্ব ত্যাগ করে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। চরম মানবিকতার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বলছে, এর একটি ইতিবাচক সমাধান হওয়া জরুরি। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক দেশ হয়েও চীন এর বিপক্ষে দাঁড়িয়ে বিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছে। আমরা মনে করি, চীনকে তার দার্শনিক ভাবধারায় ফিরে এসে নিপীড়িতের পক্ষে সোচ্চার হয়ে দুইয়ে দুইয়ে চারে ফিরে আসুক। দুইয়ে দুইয়ে পাঁচের তত্ত্ব থেকে বেরিয়ে এসে আমজনতার পাশে এসে বলুক—আমরা নিপীড়িতের পক্ষে ছিলাম আছি এবং থাকব।

পিডিএসও/হেলাল