দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৪৬

সম্পাদকীয়

বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণের বিষয়টি আজ বহুল আলোচিত। দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে ক্রমাগত তা উঠে আসছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, দূষণবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তা রোধে বড় ধরনের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ফলে পরিবেশ দূষণের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন রোগে বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। কেবল বাংলাদেশেই বছরে ৮০ হাজার লোক মৃত্যুবরণ করছে। এ অবস্থায় সারাদেশে পরিবেশ দূষণের উৎস বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা এ অবস্থা দিন দিন আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন অনুষঙ্গও আমাদের দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। গত রোববার বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তার অন্যতম হলো বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর যত মানুষের মৃত্যু হয়, তার ২৮ শতাংশই মারা যায় পরিবেশ দূষণজনিত অসুখ-বিসুখের কারণে। দূষণের কারণে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বে এ ধরনের মৃত্যু গড় মাত্র ১৬ শতাংশ। ৭ থেকে ৮ প্রবৃদ্ধির একটি উচ্চতর মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে উঠতে হলে বাংলাদেশকে এখনই বিশেষ করে শহর এলাকায় দূষণরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছে, শহরাঞ্চলে এ দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবেশ দূষণজনিত কারণে বাংলাদেশে যেখানে ২৮ শতাংশ মৃত্যু হয়, সেখানে মালদ্বীপে এ হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। ভারতে ২৬ দশমিক ৫। পাকিস্তানে ২২ দশমিক ২। আফগানিস্তানে ২০ দশমিক ৬। শ্রীলঙ্কায় ১৩ দশমিক ৭।

এর আগে ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একটি গবেষণায় ঢাকাকে বসবাসের জন্য দ্বিতীয় অযোগ্য শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এক নম্বরে ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। বিশ্বব্যাংক বলছে, দূষণের কারণে বাংলাদেশের বছরে ৬৫০ কোটি ডলার বা ৫৩ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা ক্ষতি হয়, যা মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ।

আগামীতে এ সমস্যা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। কাজেই আমাদের দেশের পরিবেশ সুরক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আর্থিক সংকটের কারণে এ-বিষয়ক কোনো কোনো পদক্ষেপ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই এসব সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত করার বিষয়টিও ভাবতে হবে।

দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ দূষণের একটি সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়েও উল্লিখিত গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে। দ্রুত শিল্পায়নের কারণে দেশে যেসব সমস্যা সৃষ্টি হয়, তার সমাধানে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের পরিবেশ কতটা ঝুঁকিতে, এটা কয়েক দশক ধরেই আলোচনায় রয়েছে। কাজেই দেশের সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় এখনই দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।

পিডিএসও/হেলাল