বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকাশ | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:১২

সম্পাদকীয়

বয়স তো আর কম হলো না। দেখতে দেখতে ৪৭ বছর পার হতে চলল। ৫০ ছুঁই ছুঁই করছে। অর্থাৎ অর্ধশত বছর। মানুষের আয়ু সামনে রেখে বললে সময়টা অনেক। কিন্তু যখন একটি দেশের কথা ভাবা হবে তখন ৪৭ বছরকে খুব একটা বেশি মনে হবে না। তবে খুব ছোট করে দেখারও কোনো সুযোগ নেই। এক জেনারেশনের অন্তিম সময়। এ সময়ের মধ্যে কি কোনো উন্নয়ন হয়নি? এ প্রশ্নের জবাবে বলতে হয়, বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

চারপাশে তাকালেই বোঝা যাবে, কোথায় ছিলাম আর এখন কোথায়? একসময় এই বাংলাদেশকে বিদেশিরা ব্যাঙের সুরে বলেছে, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’। এখন সেই তলাবিহীন ঝুড়িকে যথাযথ সম্মান দিয়ে চলতে হচ্ছে সেসব দেশকে। গত এপ্রিলের হিসাব মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ছাড়া সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে (২০১৭-১৮) জুলাই থেকে মে এই ১১ মাসে বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশের আয় ৩ হাজার ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৯ হাজার ১৯৪ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার। জিডিপি অনেকের কাছে আজ ঈর্ষণীয় ব্যাপার। আগামী অর্থবছরে দেশের জিডিপি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি এ কথা না বললেই নয় যে, আমাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড আর আগের মতো দুর্বল নেই। এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণে এগিয়ে চলেছি। এরই মধ্যে এই প্রকল্পের ৫৭ শতাংশের কাজ শেষ হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা পর্যন্ত ৬ দশমিক ১ কিলোমিটার সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিমের ২১ জেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে; যা বাংলাদেশের ভৌত কাঠামো গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলেই সবার বিশ্বাস। এখানেই শেষ নয়, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সড়ক খাতের উন্নয়নে ২৫৪টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। একই সময়ে ভৌত কাঠামো উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে আরো ২৮১টি নতুন প্রকল্প।

আমরা মনে করি, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের যে মহাসড়কে উঠেছে, এখান থেকে পেছনে ফিরে আসার কোনো পথ আর খোলা নেই। তাকে সামনের দিকে তাকিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। তবে চলার পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। এখনো নেই। তাই সতর্কতা হবে চলার পথে সফলতার একমাত্র চাবিকাঠি। অমরা আশা করব, উন্নয়নের সড়কে চলতে চলতে বাংলাদেশ একদিন তার গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।

পিডিএসও/হেলাল