গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:০৪ | আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:১৯

সম্পাদকীয়

সড়কের শৃঙ্খলা ফিরবে কবে? এ প্রশ্নের জবাব পেতে সম্ভবত অপেক্ষার মাত্রাকে আরো দীর্ঘায়িত করতে হবে। কেননা প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে শৃঙ্খলা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে সরকার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনের সংস্কারও করা হয়েছে। কিন্তু ফলাফল ইতিবাচক হতে পারেনি। পরিবহন মালিক সমিতির নেওয়া সিদ্ধান্ত মানছেন না বাস মালিকরা। আইনের তোয়াক্কা করছেন না গাড়ির মালিক ও চালকরা। পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যে ১৭টি নির্দেশনা দেওয়া হয়, তার কোনো সাড়াশব্দ নেই। বিষয়টি সম্ভবত ডিপফ্রিজে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এমতাবস্থায় বলতেই হয়, রাজধানীর গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলাকে মেনে নিয়ে চলা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না যাত্রীসাধারণের।


আইনের তোয়াক্কা করছেন না গাড়ির মালিক ও চালকরা। সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যে ১৭টি নির্দেশনা দেওয়া হয়, তার সাড়াশব্দ নেই। বিষয়টি সম্ভবত ডিপফ্রিজে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে


বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৭টি নির্দেশনার মাঝে সাতটি ছিল দ্রুত কার্যকর করার মতো। যার একটিও মানা হচ্ছে না সড়কে। চারটি নির্দেশনা চলমান প্রক্রিয়ার অংশ এবং অপর চারটি নির্দেশনা কার্যকর করতে প্রয়োজন দীর্ঘ সময়ের। বাকি দুটির জন্য বাঁধা আছে নির্দিষ্ট সময়। প্রবচনে শুনেছি, ‘কাজীর গরু খাতায় আছে গোয়ালে নেই’। রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা আমাদের সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। মাসখানেক আগে বাস মালিক সমিতি চুক্তিতে বাস চালানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলেও তা তারা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। রাজধানীর অধিকাংশ বাস এখনো চুক্তিভিত্তিক চলাচল করছে; যা নির্ধারিত বেতনভিত্তিক হওয়ার কথা। নির্ধারিত বেতন না থাকায় চালকরা বেপরোয়া বাস চালানো বন্ধ করেননি, করার কথাও নয়। তারা সব সময় বেশি যাত্রী ও বেশি ট্রিপ ধরার প্রতিযোগিতায় থাকেন।

শোনানো হয়েছে, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। কিন্তু চলছে, আইন অমান্য করে নয়। পালন করেই চলাচল করছে। বিশ্বের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন রেকর্ড তৈরি করে বিআরটিএ ফিটনেসবিহীন গাড়িকে রাস্তায় চলার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। গড় হিসাবমতে, একটি গাড়ির ফিটনেস সনদ হস্তান্তর করতে তারা সময় নিয়েছেন মাত্র ৪২ সেকেন্ড। হাজার হাজার গাড়ির কাছে এখন এই সনদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সনদ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছে।

তারা আরও বলেছেন, পরিবহন খাতে মালিক ও শ্রমিক সমিতি যা চাচ্ছে তাই হচ্ছে। এসব সমিতির বিপক্ষে গিয়ে নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষমতা ও জনবল কোনোটাই সরকারি সংস্থাগুলোর নেই। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দল, সাধারণ নাগরিকসহ সবপক্ষের সমর্থন প্রয়োজন। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমরা সে সিদ্ধান্তের প্রত্যাশায় রইলাম।

পিডিএসও/হেলাল