শেষ কোথায় এ বর্বরতার

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১০

সম্পাদকীয়

আবারও বাসে ধর্ষণ। টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে রূপাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটল একই ঘটনা। বাসে ধর্ষণ এখন এক নতুন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে প্রতিবেশী ভারতে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এখন ঘটছে আমাদের দেশে।

ধর্ষণের মতো রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা যেন দিন দিন বাড়ছে। রাস্তায় যানবাহন যে নারীদের জন্য চরম অনিরাপদ এ কথায় যেন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এসব ঘটনা। সময়ের সঙ্গে সভ্যতার পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি মানুষের মানসিকতার, কমেনি নারীর প্রতি সহিংসতা বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা অনেক বেড়েছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় ধর্ষণের ক্ষেত্রে নিত্যনতুন বাজে দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে।

এবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে একজন প্রতিবন্ধী কিশোরী। সে তার নাম ও জেলার নাম ছাড়া কিছুই বলতে পারে না। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে এই বর্বরতার মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়।

টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ববর্তী বাসস্টেশনগামী বাসযাত্রী নিয়ে যাচ্ছিল। মাঝপথে সব যাত্রী নেমে গেলেও ওই প্রতিবন্ধী কিশোরী থেকে যায়। খালি বাসে একা পেয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীর মতো একজন অবলাকেও বলাৎকার করতে দ্বিধা করেনি বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। তবে আমরা বিচারের দাবি করতে পারি। সরকারের কাছে আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবি, এই পাশবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ধরনের সহানুভূতি না দেখিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

আমরা জানি, লুটেরাপুঁজির দৌরাত্ম্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পাশবিক কর্মযজ্ঞের পরিসমাপ্তি ঘটানো সম্ভব নয়। আর এই দৌরাত্ম্যকে রাতারাতি সরিয়ে দেওয়াও যাবে না। সে কারণে এর লাগাম টেনে ধরার জন্য আমরা এ ধরনের অপরাধকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের পথকে উন্মুক্ত করার জোর দাবি উত্থাপন করছি।

সমাজে এ ধরনের পৈশাচিক বর্বরতা ক্রমেই বাড়তে থাকলে, একসময় তা মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শুরুতেই এর কবর রচনা করা আমাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা মনে করি, রাষ্ট্র এবং সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আর দেশের বিবেকবান মানুষ এ কাজে সব সময় রাষ্ট্র ও সরকারের পাশে থাকবে।

পিডিএসও/হেলাল