প্রতারণার রাজনীতি

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:১৬

অনলাইন ডেস্ক

সম্ভবত পুঁজিবাদী অর্থনীতি তার চূড়ান্ত বিকশিত পর্যায়ের করিডরে কড়া নাড়তে শুরু করেছে। আমরা তার পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। সম্ভবত পুঁজি তার নিজের ওজনের চাপ সইবার ক্ষমতা আজ হারিয়ে ফেলেছে। যেকোনো মুহূর্তে তা ভেঙে পড়তে পারে। ইতোমধ্যেই দুই পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে তার শেষ কোথায়—এ মুহূর্তে বলা না গেলেও বলা যায়, বিশ্বশান্তি ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এটি একটি মহাবিপদ সংকেত। পৃথিবীজুড়ে যার নমুনা আজ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। প্রেম-প্রীতি আর ভালোবাসা এখন আর আগের সেই মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। পণ্য। মূল্যহীন হয়ে পড়েছে মানবিক বোধ। বর্তমান সময়ে এর জীবন্ত উদাহরণ হচ্ছে মিয়ানমার সরকারের সুপরিকল্পিত গণহত্যা এবং হত্যা-পরবর্তী সময়ের মিথ্যাচার।

যে রোহিঙ্গাদের তারা গণহত্যার মধ্য দিয়ে দেশ থেকে উচ্ছেদ করেছে; তাদেরকেই ‘বর্বর ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করতে মিয়ানমার সরকার প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। তারা মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বর্বর সেনাদের হাতে নিহত বাঙালিদের লাশ দেখিয়ে বলেছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হাতে নিহত স্থানীয় বৌদ্ধদের লাশের ছবি। এসব ছবি ছাপা হয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত একটি গ্রন্থে। সেখানে তাঞ্জানিয়ার হত্যাকাণ্ডের ছবিও ব্যবহার করে বলা হয়েছে, এ বর্বরতা রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর। কিন্তু কেন এ প্রতারণা? এ প্রশ্নের জবাবে বলতে হয়, মিয়ানমার সরকারের মুখোশ যখন বিশ্বদরবারে খুলে পড়েছে; তখন তাদের হাতে বিকল্প আর কিছু না থাকায় প্রতারণার পথকেই শ্রেষ্ঠ পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে।

প্রতারণার পথ তাদের জন্য সেরা পথ হতে পারে, আমাদের জন্য নয়। কোনো বিবেকবান মানুষের জন্যও নয়। আর বিশ্বমানবতার জন্য তো নয়ই। বিশ্ববিবেক বলছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ থেকেই রাখাইনের অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ কয়েকজন জেনারেলকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি উত্থাপন করেছে। এ দাবির প্রতি বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ এবং রাষ্ট্রের সমর্থন থাকলেও চীন, রাশিয়া ও ভারতের সমর্থন পাওয়া যায়নি। তবে রাশিয়া ও ভারতের ভূমিকা ধরি মাছ না ছুঁই পানির পর্যায়ে থাকলেও চীন সরাসরি এর বিরোধিতা করেছে।

এ পর্যায়ে একটি কথা না বললেই নয় যে, চীনের সমাজতান্ত্রিক দর্শনের কফিনে কি শেষ পেরেক ঠোকার কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে! তা না হলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের মতো হতদরিদ্র, অশিক্ষিত, অবহেলিত এবং নির্যাতিত একটি ক্ষুদ্র জনসমষ্টির ওপর পৃথিবীর নিকৃষ্টতম গণহত্যার পরও চীন কোন বিচারে মিয়ানমারের পক্ষে দাঁড়াতে পারে! দেশটি তখনই দাঁড়াতে পারে যখন সে তার দর্শনে আমূল পরিবর্তন এনে নিপীড়কের ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে পুঁজির শেষ উল্লম্ফন এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে। বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ চীনকে এ ভূমিকায় দেখতে চায় না। দেখতে চায় নিপীড়িতের পক্ষে তার অবস্থান।

পিডিএসও/হেলাল