বিআরটিএ’র এ কেমন চমক!

প্রকাশ | ৩০ আগস্ট ২০১৮, ০৯:১৩

সম্পাদকীয়

লাগ ভেল্কি লাগ...। এখন আর সেভাবে লাগে না। ভাবের বদল হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে। বদলেছে পরিবেশ। বদলেছে চরিত্র। শব্দটি ঠিক থাকলেও বদলেছে অনেক কিছু। বেড়েছে ক্ষমতা। ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে পোশাক। ভেল্কি এখন পোশাকে রূপান্তর ঘটিয়ে হয়েছে ‘চমক’। আর এ চমকের যেন শেষ নেই। ডানে তাকালেই চমক। বামেও তাই। সামনে-পেছনে, উত্তরে-দখিনে—চারপাশে শুধু চমকের বাহার। তবে সব চমককে তাক লাগিয়ে নতুন চমকের জন্ম দিয়েছে ঢাকার বিআরটিএ। সম্ভবত এ চমকের কথা ভবিষ্যতে গ্রিনেস বুকেও জায়গা করে নিতে পারে।

মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, বিআরটিএর মিরপুর কার্যালয় যানবাহনের ফিটনেস সনদ দিচ্ছে অস্বাভাবিক দ্রুততায়। প্রতি ঘণ্টায় দেওয়া হয়েছে ৮৬টি সনদ। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর মিরপুর কার্যালয়ও চমক সৃষ্টিতে পারদর্শী দেখাতে কার্পণ্য করেনি। শুধু পোশাকেই নয়, কর্মেও পরিবর্তন এনে যে চমক দেখিয়েছে, তা কেবল বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়; বিশ্ব ইতিহাসের একটি মাইলফলক হওয়ার দাবিদার হতে পারে। মাত্র ১৬ কার্যদিবসে তারা সাড়ে ১৬ হাজার সনদ হস্তান্তর করেছে। কর্মঘণ্টা হিসেবে দেখা যায়, একটি যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষাসহ সনদ হস্তান্তর করতে বিআরটিএ গড়ে সময় নিয়েছে মাত্র ৪২ সেকেন্ড। প্রকাশ্যে এত বড় তেলেসমাতি কারবার সম্ভবত এ দেশে দ্বিতীয়টি আর হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি অস্বাভাবিক। তবে সাধারণ মানুষ বলছেন অন্য কথা। এখানে লাভ-লোকসানের অঙ্ক নিহিত আছে। এ দেশে লোকসানের দায় সব সময়ই তাদেরই বহন করতে হয়েছে। কলুর বলদের মতো অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এ যাবৎ তারা কাজটি সম্পন্ন করেছে। তবে লাভের গুড় যারা পাত্রে তুলেছেন, তাদের নিষ্ঠাকেও অবহেলা করার উপায় নেই। সেখানেও নিষ্ঠার কোনো ঘাটতি নেই। ঘাটতি নেই বলেই ৪২ সেকেন্ডে ফিটনেস সনদ পেয়ে যাচ্ছে এক একটি যানবাহন।

তবে, এদের বিরুদ্ধে অভিযোগও কম নয়। অভিযোগ উঠেছে, এরা তাদের নিষ্ঠাকে, তাদের সম্পদের পরিধিকে আরো স্ফীত করার কাজে ব্যবহার করছে। এদের জাতই আলাদা। সমুদ্রের ঢেউ গোনার কাজে নিয়োগ দেওয়া হলেও এরা তাদের উপরি আয়ের ব্যবস্থা না করে বসে থাকেনি। তবে পরিবেশ যদি সাহায্যকারী ভাবের ভূমিকা থেকে সরে আসে, তখন এদের পথ রুদ্ধ হতে বাধ্য, যা এ দেশে কখনো হতে দেখা যায়নি। আর সে কারণেই প্রায়ই আমাদের অনেক অস্বাভাবিক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়।

আমরা মনে করি, ৪২ সেকেন্ডে যেসব যানবাহনের ফিটনেস সনদ দেওয়া হয়েছে অর্থাৎ গত ২২ দিনে দেওয়া সব সনদকে বাতিল ঘোষণা করাই হবে সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত। আমরা এ রকম একটি সিদ্ধান্তের প্রত্যাশায় থাকলাম।

পিডিএসও/হেলাল