বিবেক জাগ্রত হোক

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ১১:৫২

সম্পাদকীয়

বিআরটিএ অফিসে ভিড় বাড়ছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি শুভ লক্ষণ। হয় তো ঘুণেধরা সেই বিবেক আবার জাগ্রত হয়েছে। বেড়েছে আত্মসচেতনতা ও দায়িত্ববোধ। এত দিন অনেকের তা ছিল না বললেই চলে, যা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। গত সপ্তাহজুড়ে লাইসেন্সবিহীন চালক ও গাড়ি সড়কে নয়, শিক্ষার্থীদের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যানবাহনের কাগজপত্র নবায়ন ও চালকের লাইসেন্সপ্রাপ্তির জন্য মালিক ও চালকরা এখন ভিড় করছেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিতে (বিআরটিএ)।

শুধু তা-ই নয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরুর পর থেকেই ভিড় বেড়েছে। আর গত দু-তিন দিনে প্রতিদিন লাইসেন্সসহ বিভিন্ন বৈধ ডকুমেন্ট তৈরির আবেদন পড়েছে কয়েক গুণ। তাদের এই সচেতনতা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। এটি একটি আশাব্যঞ্জক দিক। আমরা তাদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।


গত সপ্তাহজুড়ে লাইসেন্সবিহীন চালক ও গাড়ি সড়কে নয়, শিক্ষার্থীদের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যানবাহনের কাগজপত্র নবায়ন ও চালকের লাইসেন্সপ্রাপ্তির জন্য মালিক ও চালকরা এখন ভিড় করছেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিতে


সড়ক দুর্ঘটনায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এ দুর্ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে তারা রাজপথে নেমে আসে ও সরকারের কাছে ৯ দফা দাবি তুলে ধরে। তাদের এ দাবিকে সাধারণ মানুুষের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রী ও নেতারাও যৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সড়কে গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিলে জনগণ তাকেও সর্বতোভাবে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু ছাত্রদের তদারকিতে সড়ক পরিবহনের যে সীমাহীন বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম বেরিয়ে এসেছে, তা কল্পনা করাও কঠিন। দেখা গেছে, অসংখ্য বেসরকারি যানবাহনের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের যানবাহনেরও বৈধ কাগজপত্র ছিল না। তবে আমরা আশা করি, যানবাহনের মালিক ও চালকদের মধ্যে এখন বৈধ কাগজপত্র তৈরির যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ এটিকে একটি বিরাট সাফল্য বলে উল্লেখ করেছে। তবে তাদের মতে, ভ্রাম্যমাণ আদালত, ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা সত্ত্বেও সড়কে শৃঙ্খলা না আসার পেছনে জনসাধারণের ইচ্ছার ঘাটতি রয়েছে। কারণ, যিনি গাড়ি চালান দায়িত্বটা তার নিজের। তিনি নিজে শৃঙ্খলা না রাখলে আইন দিয়ে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা দুরূহ। তবে যে যাই বলুক, আমরা আশা করব শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নাগরিক দায়িত্ব পালনের যে দায়বোধ জাগ্রত হয়েছে, তা কোনোভাবেই যেন লুপ্ত না হয়। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি অন্যদের দায়িত্বও কম নয়। প্রত্যেকে যদি নিজেদের দায়িত্বের প্রতি সচেতন থাকে, তাহলে সব বাধাবিপত্তিকে অতিক্রম করে আমরা একটি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। এতে রাজপথ যেমন শঙ্কামুক্ত হবে, তেমনি মানুষের জীবনযাত্রাও হবে নির্বিঘ্ন।

পিডিএসও/হেলাল