কর্মস্থলে ফেরা নির্বিঘ্ন হোক

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৮, ০৮:৫৪ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৮, ০৯:০০

সম্পাদকীয়

ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। তিন দিন সরকারি ছুটির পর গতকাল সরকারি অফিস ও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও খুলেছে। ফলে কয়েকদিন ধরে ফাঁকা ঢাকা আবার প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে। ঈদে ঘরে ফেরার ধকল গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অনেকাংশে কম ছিল। বলা যায়, ঈদের দুদিন আগে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটের ভোগান্তি বাদ দিলে যাত্রীসাধারণ মোটামুটি নির্বিঘ্নেই ঘরে ফিরেছে। নৌপথে বাড়তি সতর্কতার কারণে এ বছর দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কোনো লঞ্চ কিংবা নৌযানে যেন বাড়তি যাত্রী নেওয়া না হয়, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর ছিল। রেলপথে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেন চলাচল করলেও কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। নিঃসন্দেহে এটি ছিল সবার জন্য স্বস্তিদায়ক একটি দিক।

ঈদে লাখ লাখো মানুষ ঘরে ফেরেন। আবার তারা নির্দিষ্ট সময় শেষে কর্মস্থলে ফেরত আসেন। এটি কোনো নতুন বিষয় নয়। কারণ, জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে যে যেখানেই থাকুক না কেন, বছরে অন্তত দুটি ঈদে তারা স্বজনদের কাছে ফিরে যান। আবার যথাসময়ে কর্মস্থলে ফিরে আসেন। তবে এবারের ঈদযাত্রায় টিকিটের ভোগান্তি থাকলেও পথে যানজট ছিল কম। ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে বাড়তি মানুষের চাপ অনেকটাই পরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ছাড়া ঈদের আগে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহাসড়কগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় সড়ক পরিবহনমন্ত্রীও হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। বলেছিলেন, ভোগান্তি হবে না এমন কথা তিনি দিতে পারছেন না। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য চলতি বছর ঈদে ঘরে ফেরার ধকল গত কয়েক বছরের তুলনায় কম হয়েছে।

নৌপথে বাড়তি সতর্কতার কারণে এ বছর দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যাত্রীরাও ছিলেন সতর্ক। কোনো লঞ্চ কিংবা নৌযানে যাতে বাড়তি যাত্রী নেওয়া না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা নজর রাখার চেষ্টা করেছে। রেলপথে ঠাসা যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রেন চলাচল করলেও কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত রাজধানীমুখী যানবাহনে বেশ ভিড় থাকবে। এতে যানজটের আশঙ্কাও থাকছে। বর্ষার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দুর্ভোগের শিকার হতে পারেন কর্মস্থলমুখী যাত্রীরা।

আমরা আশা করব, যানবাহনের চালকরা এ সময়ে বাড়তি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। যেকোনো দুর্ঘটনা মানেই শুধু যাত্রীদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া, নিজের জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে সচেতন থাকাই বাঞ্ছনীয়। এ ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশ বা হাইওয়ে পুলিশকে সক্রিয় হতে হবে। ঈদে ঘরে ফেরার সময় সড়ক ও নৌপথে ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে সরকার যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে, তা যেন কর্মস্থলে ফেরার ক্ষেত্রেও অক্ষুণ্ন থাকে আমরা এমনটাই দেখতে চাই।

ঈদে প্রতি বছরই লাখ লাখ মানুষ তাদের কর্মস্থল ছেড়ে যায়, আবার নির্দিষ্ট সময় শেষে কর্মস্থলে ফিরে আসেন। তবে সে যাত্রাকে যতটা সম্ভব বিড়ম্বনামুক্ত করা যায়, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকাই আমাদের কাম্য।

পিডিএসও/হেলাল