হয়রানির ম্যাকানিজমে সরকারি অফিস

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৮, ১৫:১৮

সম্পাদকীয়

অভিমতটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। কমিশন বলছে, সরকারি অফিসগুলো সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার ম্যাকানিজমে পরিণত হয়েছে। এটি কোনো সুখবর নয়। আমাদের সবার জন্যই খবরটি দুঃখজনক। তাদের মতে, দেশের ভূমিব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত—গণশুনানিতে তারা বারবারই এই মতামত উঠে আসতে দেখেছেন।

বিষয়টি সংবিধানের সঙ্গে সব সময়ের জন্য সাংঘর্ষিক। সংবিধানে জনগণকে সব ক্ষমতার উৎস বলা হলেও, বাস্তবতার নিরিখে তা আজ গৌণ হয়ে পড়েছে। দুদকের মুখ থেকে যখন এ ধরনের শব্দাবলি বেরিয়ে আসে, তখন বলতেই হয়, দেশটা কী রাতারাতি বদলে গেল! এতকাল শুনেছি, সরিষার মধ্যে ভূত থাকলে সে সরিষা দিয়ে ভূত তাড়ানো সম্ভব নয়। যুগ বদলেছে। ডিজিটাল যুগে অনেক কিছুই সম্ভব।

তারা বলেছেন, জনগণের করের টাকায় বেতন পেয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবেন, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা আরো বলেছেন, শুনানিতে এসে সরকারি কর্মকর্তারা সুন্দর সুন্দর কথা বলে গেলেই সমস্যার সমাধান হবে না। জনগণ দুর্নীতিমুক্তভাবে, সময়মতো সেবা পেল কি না—তাও দেখার দায়িত্ব নিতে হবে।

কে নেবে দায়িত্ব? কাকে দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলা হয়েছে? যাদের বলা হলো তারা সবাই সরকারি কর্মকর্তা। প্রথম ও বর্তমান শুনানির মধ্যে আড়াই বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও কোনো পরিবর্তন এখনো পর্যন্ত চোখে পড়েনি। দুর্নীতিমুক্তভাবে কোনো ঘটনার সমাধান হয়েছে বলে শোনা যায়নি।

ভুক্তভোগীদের মধ্য থেকে একজন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী আরেফ আহমেদের স্মৃতি রক্ষার্থে পুরান ঢাকার কেএম দাশ লেনে একটি জায়গা বরাদ্দ দেয় সরকার। দশ বছর ধরে অনেক ঘোরাঘুরির পরও দলিল বুঝে পাওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৫ সালের গণশুনানিতে উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেছিলেন, কয়েকদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, কর্মকর্তারা কোনো কাজ করেননি। অথবা বলা যায়, কোনো কিছুতেই সরকারি কর্মকর্তাদের চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি।

সরকারি পক্ষ থেকে মত এসেছে, একা কারো পক্ষে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আমরাও মনে করি, একা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তবে, শরীরের সর্বস্তরে ক্যানসার-আক্রান্ত এ প্রতিষ্ঠানের রোগ কোনো ব্যক্তির (ডাক্তারের) পক্ষে সারানো যেমন সম্ভব নয়, ঠিক একইভাবে দরকার একটি যৌথ ব্যবস্থাপনা (মেডিকেল বোর্ড) এবং যথোপযুক্ত ওষুধের জোগান।

এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, জোগান দেবে কে? আমরা সেই জোগানদারকে পেতে চাই আর প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতিমুক্ত দেখতে আগ্রহী। আশা করি, যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নেবে।

পিডিএসও/তাজ