অকেজো হচ্ছে এনআইডি

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৩৩ | আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৫৯

সম্পাদকীয়

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুই অকেজো হয়ে পড়বে। বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু বয়সের আগেই যদি এ রকম ঘটনা ঘটে, তাকে আমরা স্বাভাবিক বলতে পারি না। এ রকম অস্বাভাবিক কিছু ঘটনা সমাজে প্রায়ই ঘটে থাকে।

যার মধ্যে কিছু ঘটনাকে আমরা মেনে নেই। আবার কিছু ঘটনাকে মেনে নেওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে। যেসব ঘটনা মানুষ তাদের অসাধু কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ঘটিয়ে থাকে। কখনো একাকী। আবার কখনো যৌথ ব্যবস্থাপনায়। এ রকম একটি কাজের নমুনা, ‘এনআইডির ৭০ লাখ কার্ড অকেজো হয়ে পড়েছে।'

নিম্নমানের মুদ্রণ ও সংরক্ষণজনিত ত্রুটির কারণে দেশীয় প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস বিডির ৭০ লাখ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অকেজো হয়ে পড়েছে। কাজটি এতই নিম্নমানের হয়েছে, যা দেখে স্বয়ং নির্বাচন কমিশনকে স্তম্ভিত হতে হয়েছে। পরবর্তী উৎপাদন ও বিতরণ পক্রিয়াকে বন্ধ করে গঠন করতে হয়েছে একাধিক তদন্ত কমিটি।

মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কাগজে মুদ্রিত লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণে গোঁজামিল ও দায়সারা কাজ সম্পন্ন করে বিল হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানটির। কিন্তু যেকোনো কারণেই হোক, প্রতিষ্ঠানটির সেই অসৎ উদ্দেশ্য সফল হয়নি। এর আগে প্রথম দফায়ও একই ঘটনা ঘটে। ফ্রান্সের একটি কোম্পানির ব্যর্থতার কারণে বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়। পরে সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে এবং অর্থায়নে স্মার্টকার্ড মুদ্রণ কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া হয়।

এ মুহূর্তে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ। সরকারের লক্ষ্য ছিল সব ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়া। সে গুড়ে তো ইতোমধ্যেই বালু পড়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন উপসর্গ। প্রকল্প-১-এর অধীনে ৯ কোটি ভোটারকে এবং প্রকল্প-২-এর আওতায় অবশিষ্ট ভোটারকে স্মার্ট পরিচয়পত্র দেওয়ার চিন্তা করলেও তা দিতে না পারায় অবশিষ্ট ৯৩ লাখ ভোটারকে নরমাল কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ইসি এবং সেই মোতাবেক টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

তবে কাজ দেওয়ার ব্যাপারে ঘটে তুঘলকি কাণ্ড। কম দরদাতা সবাইকে ডিঙ্গিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি এভাবে কেন করা হয়েছিল, কারা করেছিলেন, তার প্রকৃত বিশ্লেষণ আমাদের জানা না থাকলেও খুব সহজেই অনুমান করা যায়, ‘সরিষার মধ্যে ভূতের অবস্থান ছিল’।

আমরা মনে করি, এসব ভূতের চেহারা জনসম্মুখে উন্মোচন করা হোক। আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো হোক। শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। আর এটাই হচ্ছে দেশপ্রেমিক সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/তাজ