বাংলাদেশ ক্রিকেটে ঘুণপোকা

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৮, ১৫:২৩ | আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৮, ১৫:৩৬

সম্পাদকীয়

ঘুণপোকা যখন কাটতে থাকে, তখন কেউ তা টের পায় না। অথবা টের পেলেও কখনো তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু যখন ধস নামে, তখন তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো কিছুই করার থাকে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রশ্নে অনেকে এ রকমটাই বলছেন। বলছেন, ঘুণে খেয়ে যাচ্ছে ক্রিকেট দলটিকে।

পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দৃশ্যত কোনো ব্যবস্থাপত্রও চোখে পড়ছে না। পরিলক্ষিত হচ্ছে না কোনো উদ্যোগ। আর সে কারণেই বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে। দলীয় পারফরম্যান্স ক্রমেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়েই চলেছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এখান থেকে বেরিয়ে আসারও যেন কোনো পথ আর খোলা নেই।

ক্রিকেটের একটি প্রবচন প্রায় সবারই জানা। অভিজ্ঞতার আলোকে হৃদ্য এই প্রবচনটিতে বলা হয়ে থাকে, ‘ক্যাচ মিস তো সব মিস’। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, প্রবচনটিও যেন বাংলাদেশের সঙ্গে চলতে নারাজ। আর বিষয়টি প্রমাণ হলো কলম্বোতে চলমান নিদাহাস ট্রফিতে। একের পর এক ক্যাচ ফেলে দেওয়ার পরও বাংলাদেশ দল ভারতের বিপক্ষে রানের পাহাড় তো দূরের কথা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো রান তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা পাঁচটি ক্যাচ দিলেও তা ধরতে ব্যর্থ হয়েছে ভারত। অর্থাৎ পাঁচ-পাঁচটি সুযোগ পাওয়ার পরও সে সুযোগ কাঝে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।

কলম্বোতে নির্ধারিত কুড়ি ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৯ রান করেছে তৃণভোজী টাইগাররা। ভারতের ক্যাচ ফেলার প্রতিযোগিতা দেখে অনেক ক্রিকেটপ্রেমী দর্শক এমনও মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশকে যেন করুণা করছে ভারত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কিংবা দল যদি ক্রিকেট দ্বৈরথে কারো করুণা নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়, তাহলে পরিচালনা পর্ষদের বলার কিছু না থাকলেও সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের কিছু বলার আছে। তারা এ ধরনের আচরণ বরদাস্ত করতে রাজি নয়। তারা এর একটা বিহিত প্রত্যাশা করে।

আমরাও এই মতের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, যারা এই দল পরিচালনার দায়িত্বে, তাদের দায়িত্ব পালনে সততার নিদর্শন রাখা এ মুহূর্তে সময়ের দাবি। একই সঙ্গে যারা খেলছেন, তাদেরও মনে রাখতে হবে, তারা একটি দেশের পতাকাকে বিশ্ব মানচিত্রে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে।

এটা আইপিএল অথবা বিপিএলের কোনো খেলা নয়। তার চেয়েও বেশি কিছু। এই বেশি কিছুর নাম দেশপ্রেম। আমরা বিশ্বাস করি, গুণে-মানে এবং যোগ্যতায় আমাদের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আগামীতে তারা আমাদের বিশ্বাসের প্রতি মর্যাদা দেখাতে কার্পণ্য করবেন না-এটাই প্রত্যাশা।

পিডিএসও/তাজ