নিয়ন্ত্রণের বাইরে যানজট

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:১০

সম্পাদকীয়

কোনো কিছুতেই নিয়ন্ত্রণের ভেতরে আনা যাচ্ছে না যানজট। নিরসনের জন্য আধা ডজনেরও বেশি ফ্লাইওভার নির্মাণ করে অনেকটা বোকার মতো তাকিয়ে থাকতে হয়েছে। যানজটের মাত্রা তো কমেইনি বরং বেড়েছে বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট স্থান করে দেওয়া এবং উল্টোপথে গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার পরও ঢাকা শহরে যানজট আগ্রাসী আকার ধারণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়েছেন ২০১৫ সালের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর। বলেছেন, ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধিই রাজধানী শহরের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই স্রোতকে ঠেকানোই হবে যানজট নিরসনের অন্যতম প্রধান এবং প্রথম শর্ত। যার জন্য প্রয়োজন হবে ডিস্সেন্ট্রালাইজেশন তত্ত্ব।

রাজধানীতে পানের দোকানের মতো গজিয়ে উঠেছে এবং উঠছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ। যেগুলোকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিতে পারলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা সম্ভব হতো। প্রথমত, যানজটের আক্রমণ কিছুটা হলেও হাল্কা হওয়ার সুযোগ পেত। পাশাপাশি একটি বিশ্ববিদ্যালয় অথবা একটি মেডিক্যাল কলেজ জেলা অথবা উপজেলাকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেত।

শুধু মেডিকেল কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, একসঙ্গে ঢাকা শহরে যেসব যানবাহন চলাচল করছে, তার অধিকাংশই ব্যক্তি মালিকানাধীন। বাস্তবতা বলছে, এ শহরে যত দিন পাবলিক সেক্টর অর্থাৎ সরকারি বাসের সংখ্যা বিশেষ করে দোতলা বাসের সংখ্যা শহরের চাহিদাকে পূরণ করতে না পারবে এবং প্রাইভেটকারের সংখ্যাকে কমানো না যাবে, ততদিন যানজটের বিষাক্ত নিঃশ্বাসে পুড়তে থাকবে প্রাচ্যের ভেনাস। সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ফ্লাইওভার নির্মাণে সক্ষম হলে এক হাজার দ্বিতল বাস নামাতে সক্ষম হবে না কেন! যা ঢাকা শহরের যানজট কমানোসহ মানুষের বহুমুখী দুর্ভোগ নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তখন নিজের প্রয়োজন এবং সাচ্ছন্দ্যের প্রশ্নে মানুষ পাবলিক সেক্টরের যানবাহনকে আঁকড়ে ধরবে এবং অন্যান্য যানবাহনের লাভ কমতে থাকায় ক্রমান্বয়ে তা কমতে থাকবে।

মানুষ রিকশাকে আর বাহন হিসেবে গ্রহণ করবে না। রিকশাকে ঢাকা শহরের বাইরে নেওয়া গেলে রাজধানী তার হারানো গৌরবকে ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবে বলেই সবার বিশ্বাস। একইসঙ্গে গণপরিবহনের মধ্যে ট্রেনের সহজলভ্যকে আরও গতিশীল করাটাই এখন সময়ের দাবি। আমরা আশা করব, কর্তৃপক্ষ আমাদের এই পরামর্শকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

পিডিএসও/হেলাল