চোখ বেঁধে পায়ের নখ উপড়ে স্কুলছাত্রকে নির্যাতন

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৭, ১৮:১৪

অনলাইন ডেস্ক

চোর অপবাদ দিয়ে আশুলিয়ার কুরগাও হাউজিং সোসাইটি এলাকার এক স্কুলছাত্রকে চোখ বেঁধে নির্যাতন চালিয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের লোকজন। দফায় দফায় পেটানোর পর তার পায়ের নখও উপড়ে দেওয়া হয়েছে। নির্যাতনের শিকার সানি আলম (১৩) এলাকার প্রফেসর পাড়া হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

বুধবার এই ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। তবে শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি জানান পর আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আওয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বেলা তিনটার দিকে আহত ওই কিশোরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় জড়িত কিবরিয়া নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

নির্যাতিত ওই স্কুলছাত্রের বাবা অটোরিকশা চালক সরোয়ার হোসেন জানান, তার দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে আশুলিয়া কুরগাওয়ের হাউজিং সোসাইটি এলাকায় রেজার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। সানি আলম তার বড় ছেলে। বুধবার বিকালে হঠাৎ করেই স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিউল আলম সোহাগ ও তার লোকজন চোর সন্দেহে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় পাশের রিমেক্স লিবার্টি সিটির ভেতরে। সেখানে চোখ বেঁধে তাকে নির্যাতন করেন ইউপি সদস্যের লোকজন। চার ঘণ্টা দফায় দফায় নির্যাতন চালানোর এক পর্যায়ে ইউপি সদস্যের লোকজন তার পায়ের নখও উপড়ে দেয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এর পর থেকে পুরো পরিবারটিকে নজরবন্দি করে রাখেন ইউপি সদস্যের লোকজন। শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে থানার ওসি স্কুলছাত্র সানি আলমকে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্রের প্রতিবেশী ফাতেমাসহ একাধিক লোকজন জানান, সানি আলম স্কুলে পড়াশুনার পাশাপাশি অটোরিক্সা চালিয়ে তার পরিবারকে সহযোগিতা করতো। সে ভালো ছেলে। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে এভাবে মারধোর করা হয়েছে।

স্কুলছাত্রকে মারধোরের কারণ সম্পর্কে তার বাবা সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছেলে স্কুলে পড়াশুনা করে। এ সুবাধে পার্শ্ববর্তী কিবরিয়ার ভাইয়ের মেয়ের সঙ্গে সনি আলমের বন্ধুত্ব হয়। এ কারণে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এভাবে নির্যাতন চালায়।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য শফিউল আলম সোহাগ বলেন,  ‘ছেলেটি খারাপ। চুরি করতো, সে কারণে তাকে তাকে হালকা মারধোর করা হয়েছে।’

পিডিএসও/রিহাব