মিডিয়া কর্মী বাবা টানা ৮ বছর ধর্ষণ করল মেয়েকে

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৭, ১৪:৩২ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৭, ১৪:৪৭

অনলাইন ডেস্ক

৮ বছর ধরে সৎমেয়েকে ধর্ষণ করে আসছিলেন বাবা আরমান হোসেন ওরফে সুমন (৩৮)। তিনি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের শব্দ প্রকৌশলী। মেয়েটির আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ক্লিপ পাঠিয়ে তার এক বন্ধুকেও হুমকি দিয়েছিলেন সুমন।

মেয়েটির ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। আরমানের এ নির্যাতনের কথা মেয়েটির মা জানতেন। এমনকি তিনিও তাকে এমন অন্যায় কাজ করতে বাধ্য করতেন।

সৎবাবার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে রমনা মডেল থানায় মামলা করেছেন ২০ বছরের ওই মেয়ে। আরমানের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুধবার তাকে মগবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার এজাহারে মেয়েটি উল্লেখ করেন, তার বাবার সঙ্গে মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ২০০৫ সালে আরমান হোসেনকে বিয়ে করেন তার মা। দ্বিতীয় বিয়ের এক বছর পর থেকে মায়ের কাছে থাকা শুরু করেন মেয়েটি। চাকরির কারণে মেয়েটির মা মোহাম্মদপুরের নুরজাহান রোডের বাড়ি থেকে সকালে কর্মস্থলে চলে যেতেন। ২০০৮ সালের কোনো একদিন দুপুরে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটিকে আরমান প্রথম ধর্ষণ করেন। এ সময় মেয়েটির আপত্তিকর ছবি মোবাইলে তুলে রাখেন আরমান। ছবি ও ভিডিও প্রকাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আরমান বছরের পর বছর ধর্ষণ করে আসছিলেন মেয়েটিকে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে পরে গর্ভপাত ঘটানো হয়। এরপরও তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে যান আরমান। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ওই মেয়ে তার এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে চলে যান। সেখানেও কুপ্রস্তাব পাঠাতে থাকেন আরমান। এতে রাজি না হওয়ায় মেয়েটির এক বন্ধুকে ভিডিও ও অডিও ক্লিপ পাঠান আরমান। এ ছাড়া আরমানের বিরুদ্ধে ফেসবুকে দুটি নকল আইডি খুলে মেয়েটি তার ছবিযুক্ত করার অভিযোগ আনেন।

এ ঘটনা সম্পর্কে আরমান হোসেনের সঙ্গে তার মোবাইলে যোগাযোগ করে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বেসরকারি চ্যানেলটির প্রধান বার্তা সম্পাদকের কাছ থেকে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু এটি একটি পারিবারিক ঘটনা, মামলা না হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা জানতাম না। তাকে ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। তাকে আর রাখা হবে না। এ ঘটনার আগে তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি তাই আমরা জানতামও না, তবে বেশ কিছু দিন ধরে অফিসে অনিয়মিত ছিল।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেয়েটি নিরাপত্তা চাইলে আমরা অবশ্যই দেব।

পিডিএসও/রিহাব