স্বরূপকাঠীতে বাজার উন্নয়নের নামে হরিলুট

প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৭, ১১:০০ | আপডেট : ১৯ মে ২০১৭, ১১:২৩

পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠীর ইন্দেরহাট বাজার উন্নয়নে সিসিআরআইপির আওতায় ৮৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দের নামে হরিলুট চলছে। চলতি বছর সম্পন্ন হওয়া ৪১ লক্ষ টাকার বরাদ্দের কাজে বাজারের উন্নয়নের পরিবর্তে চেয়ারম্যান ও নেতাদের বাড়ি উন্নয়ন হয়েছে ।

চলতি বছর সম্পন্ন হয় ৪১ লক্ষ টাকার বরাদ্দের কাজ। সামান্য বৃষ্টিতে ইন্দেরহাট বাজারের পরিবহন স্ট্যান্ডসহ ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তা পানিতে নিমজ্জিত থাকলেও বরাদ্দের ২৭৬ মিটার টপস্লাপসহ ড্রেন করা হয়েছে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের ঘরের পাশে, চেয়ারম্যানের আত্মীয়ের বাড়ির মধ্যে ও বাজার থেকে প্রায় ১ কিমি দূরে চেয়ারম্যানের নিজ বাড়িতে, যা ওই বাড়ির লোকজনেরও বিশেষ উপকারে আসবে না। অথচ ইন্দেরহাট বাজারের প্রায় ৪ শতাধিক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রায় ২০ হাজারের বেশি জনগণের নিত্যদিনের ভোগান্তির এই পরিবহন স্ট্যান্ড ও পরিষদের সামনের পানি সরানোর জন্য নিকটেই খাল ও দিঘী থাকা সত্ত্বেও এই বরাদ্দের ড্রেন নেতাদের বাড়ি চলে যাওয়ায় জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে ঠিকাদার সোহগদল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আবুল হোসেন জানান, সিসিআরআইপির আওতায় সুরাজ কনস্ট্রাকশন (যার কাজ করছেন আ. রশিদ চেয়ারম্যান ও উজ্জল) সিসি রাস্তা, ১টি টিউবওয়েল, ২টি গার্ভের সেট, ২টি স্টল, ১টি ওপেন সেট ও ১টি টয়লেট, ২৭৬ মিটার টপস্লাপসহ ড্রেন, একটি তিন ফুট কালভার্টের বাবদ ৮৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে সিসি রাস্তা, ড্রেন ২৭৬ মিটার ও কালভার্ট বাবদ ৪১ লক্ষ টাকা বরাদ্দের কাজ করেছেন বাকি কাজের জায়গা না পাওয়ায় কাজ বন্ধ আছে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, পরিষদের সামনে ও লেজ রোডে (পরিবহন স্ট্যান্ডে) পানি জমে থাকায় চলাচলে খুবই সমস্যা হয়। অথচ চেয়ারম্যান সাহেব বাজার উন্নয়নের নামে ড্রেন করেছেন বাড়িতে ।

সোহাগদল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার আ. রশিদ বলেন, এলজিইডি থেকে দেয়া স্কিম অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে, বাকি স্থাপনার জায়গা না থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে, উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, বাজার উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাজার কমিটির চাহিদা অনুযায়ী প্লান করা হয় আর ইন্দেরহাট বাজারের সভাপতি চেয়ারম্যান রশিদ। তাই তার চাহিদা অনুযায়ী প্লান দেয়া হয়েছে।

বাজারের বাইরে ড্রেন করা হয়েছে ও ইউনিয়নের বাইরে সিসি রাস্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি হজে যাওয়ায় এমনটা হয়েছে। বরাদ্দের শতকরা ৬ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের ব্যাপারে বলেন, ঠিকারদারদের এই কথা মিথ্যে, আমি ফাইল আটকিয়ে পয়সা নিই না।

পিরোজপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, দোকানঘর নাই এমন স্থানে বাজার উন্নয়নের বরাদ্দে কোন কাজ করা যাবে না এবং ইন্দেরহাটে জায়গা না থাকলে বরাদ্দ বাতিল করা হবে কিন্তু অন্য জায়গায় দেয়া হবে না। 

পিডিএসও/হেলাল