বন্ধুর ছুরিকাঘাতে বন্ধু নিহত

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২০, ১৯:২৭

নীলফামারী প্রতিনিধি
শামীম ইসলাম (নিহত) ও রবিউল ইসলাম বাবু (ঘাতক)

নীলফামারীতে প্রেমিকা নিয়ে দ্বন্দের জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার হয়েছে অপর বন্ধু শামীম ইসলাম (১৮)। 

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জেলা সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নে তরণীবাড়ি রেলওয়ে স্টেশন প্লাটফর্মে ওই হত্যার ঘটনা ঘটে। তার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার বিকাল চারটার দিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে সৈয়দপুর জিআরপি থানা পুলিশ।

এক প্রেমিকাকে নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে দ্বন্দের জেরে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় এবং নিহতের পরিবার। এমনটাই জানালেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম।

নিহত শামীম ইসলাম পলাশবাড়ি ইউনিয়নের তরণীবাড়ি মাদ্রাসা পাড়া গ্রামের মৃত. সোনা মিয়ার ছেলে। সে এবারে তরণীবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাশ করেছে। 

অপর দিকে ঘাতক রবিউল ইসলাম বাবু (১৮) একই গ্রামের শুকুর আলী ওরফে গেদা মিয়ার ছেলে। বাবু সপ্তম শ্রেণিতে পড়া শেষে তরণীবাড়ি বাজারে তার বাবার সঙ্গে রেস্তোরা ব্যবসায় জড়িত।

শামীমের অপর বন্ধু একই ইউনিয়নের তরণীবাড়ি বাবুপাড়া গ্রামের সানাউল হোসাইন (১৮) বলেন, ‘শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তরণীবাড়ি বাজারে বসে শামীমসহ কথা বলছিলাম। এসময় রবিউল ইসলাম বাবু সেখানে এসে শামীমকে রেল স্টেশনের দিকে ডেকে নেয়। আমি তাদের পিছু নিয়ে সেখানে পৌঁছতেই বাবু চলে যায়। এরপর কিছু বুঝে উঠার আগেই ‘বাবু আমাকে মেরে দিলো’ বলেই শামীম স্টেশনের প্লাটফরমে পড়ে যায়। তার বুকের নীচ থেকে রক্ত ঝড়তে দেখে চিৎকার করলে এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন’।

সানাউল আরও জানায়, শামীমের প্রেমিকাকে নিয়ে বাবুর সঙ্গে বেশকিছুদিন ধরে দ্বন্দ চলছিলো। তার (শামীমের) প্রেমিকার সঙ্গে দুই বছর আগে প্রেম থাকার দাবি করে আসছিল বাবু। ওই দ্বন্দের জেরে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। বাজারে কথা বলার সময়ও শামীম ওই দ্বন্দের কথা উল্লেখ করেছিল আমাকে।

শামীমের বড়ভাই নূর আমীন (২৫) বলেন, শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে বাবু আমাকে ফোন করে বলে ‘তোর ভাইকে সাবধান করে দে’ এই বলে ফোন কেটে দেয়। তার এমন হুমকিতে আমি তরনীবাড়ি বাজারে গিয়ে তার বাবাকে ওই হুমকির কথা জানাই। এসময় তার বাবা আমাকে বলেন বাবুকে ফোন দিয়ে ডাকতে। আমি বাবুকে ফোন দিলে সে ফোন রিসিভ করে বলে ‘তোর ভাইয়ের লাশ প্লাটফরমে ফেলে রেখেছি, এসে নিয়ে যা।’ বলে ফোন কেটে দেয়।

আমি দ্রুত স্টেশনের প্লাটফরমে গিয়ে দেখি আমার ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে উপস্থিত এলাকাবাসীর সহযোগিতায় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাবুকে প্রধান আসামি করে জিআরপি থানায় চার জনের নামে মামলা দায়ের করেছি।’

তিনি আরও জানান,‘আমার ভাই শামীমের সাথে এলাকার একটি মেয়ের দীর্ঘ দিনের প্রেমের সর্ম্পক রয়েছে। বেশ কিছু দিন থেকে ওই মেয়েকে নিজের প্রেমিকা দাবি করে আমার ভাইকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে আসছিল বাবু।’

এলাকাবাসী জানায়, সানাউলের চিৎকারে এগিয়ে এসে শামীমকে স্টেশনের প্লাটফরমে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। অচেতন অবস্থায় তাকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রেল স্টেশন এলাকায় ঘটনাটি ঘটায় আমরা সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশকে খবর দিয়েছি। সেখানে মামলা দায়ের হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতেই শামীমের বন্ধু সানাউল হোসাইনকে থানায় আনা হয়েছে।’

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা দিকে সৈয়দপুর জিআরপি থানার উপ-পরিদর্শক শাহজাহান আলী মন্ডল বলেন, এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।