নবীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান হারুনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:৫৮

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন (বামে), আহত সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমেদ (ডানে)

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ৫নং আউশকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন। চেয়াম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার থেকে শুরু করে নিরীহ মানুষদের হয়রানি ও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। যা নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না স্থানীয়রা। সর্বশেষ চেয়ারম্যানের ত্রাণ বিতরণে অনিয়মমের সংবাদ প্রকাশ করায় ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয় দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ নবীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি শাহ সুলতান আহমেদকে। যা নিয়ে সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি সরকারি ত্রাণ বিতরণ করেন চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন। কিন্তু ১০ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও তিনি দেন ৫ কেজি করে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘আসুন অসহায় দিনমজুরদের মনের কথা শুনি’ শিরোনামে এক লাইভে সাধারণ মানুষের বক্তব্যসহ অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরেন সাংবাদিক সুলতান। এরপরই চেয়ারম্যান ও তার লোকজন শাহ সুলতান আহমেদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। বর্তমানে সে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর পুর্বে ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদে ‘নবীগঞ্জে টিফিন বক্স বিতরণের টাকা আত্মসাত চেয়ারম্যানের’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। যা নিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, (তখনকার সময়) সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কর্তৃক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের এলজিএসপির বরাদ্দের একটি অংশ ইউনিয়নের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিফিন বক্স বিতরণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এরই আলোকে ইতোমধ্যে নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে টিফিন বক্স বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু আউশকান্দি ইউনিয়নের ২২-২৩টি স্কুলের মধ্যে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে টিফিন বক্স বিতরণ করা হয়নি। এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন আউশকান্দি ইউনিয়নের মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেওতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিনাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেতাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়, দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু স্কুলের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ।

তারা অভিযোগ করেন, তাদের কর্মস্থলের বিদ্যালয়ে অধ্যয়ণরত ৩য়, ৪র্থও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের টিফিন বক্স সংখ্যা ও প্রাপ্তিপত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন। কিন্তু তিনি তা বিরতণ করেনি। এছাড়াও ২১৮ সালের জুলাই মাসে একই রাস্তায় ৩ বার বরাদ্দসহ অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ আনেন ওই ইউনিয়নের ৯ জন সদস্য। পরে তার ওপর আনা হয় অনাস্থা।

বিষয়টি নিয়ে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে অভিযোগও দাখিল করা হয়েছিল। তাই একের পর এক চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে ওই এলাকার জনগন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আউশকান্দি গ্রামের এক মুরুব্বি জানান, ইউনিয়নের এমন কোন বিষয়টি নেই যে বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান হারুণ নাক গলান না। প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় সে সাধারণ মানুষদেরকে দুই ভাগ করে রেখেছে। তার অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাবের কারণে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। আউশকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন মিয়া জানান, হারুন চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই প্রভাব কাঠিয়ে আমাদের এলাকায় একের পর এক ঝগড়া বিবাদ লাগিয়ে রাখছেন। এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ অসহায় দরিদ্রদের না দিয়ে সে তার নিজের লোকদের দিয়ে দিচ্ছে। আর এতে করে অসহায়রা আরও অসহায় হয়ে পড়ছে।

সর্বশেষ সাংবাদিকের ওপর হাসলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা একটা ন্যাক্কার জনক ঘটনা। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। অনিয়ম দূর্ণীতির খবর প্রচার করাই তাদের কাজ। সাংবাদিক সুলতানের ওপর যে হামলা হয়েছে তা নিন্দনীয়। তাই এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠ বিচার হওয়া প্রয়োজন।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার পাল জানান, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা অত্যান্ত দুঃখ জনক। বিষয়টি যেহেতু ফৌজদারি অপরাধ তাই এখনও কোনও তদন্ত কমিটি বা অন্যকিছু করা হয়নি। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ​