‘ডাকাত’ বানানোর সর্দার

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২০, ১৮:২৪

ওমর ফারুক নাঈম, মৌলভীবাজার

নাম সাদ্দাম হোসেন ওরফে কাজল মিয়া। তিনি ডাকাত বানানোর সর্দার। যার বিরুদ্ধে রয়েছে খুন, চুরি, ডাকাতি, অস্ত্র আইনের ১৪টি মামলা। যুবক ছেলেদের দলে ভিড়িয়ে বনে গেছেন সর্দার। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট অঞ্চলের অধিকাংশ ডাকাতির অন্যতম হোতা এই কাজল।

শনিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) পরিমল চন্দ্র দেব, ইন্সপেক্টর (অপারেশন্স) মোঃ হুমাযুন কবিরসহ জেলা পুলিশের বিশেষ টীম অভিযান চালিয়ে দুর্ধর্ষ এই ডাকাতকে সহযোগী সাহেল মিয়াসহ ধরতে সক্ষম হয়। এরপরই বেরিয়ে আসে সেই কাজলের অপকর্মের যতসব ফন্দি। গ্রেফতার করার সময় পুলিশ একটি চাইনিজ কুড়াল ও বিদেশি চাকু উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৌলভীবাজার জেলার সাম্প্রতিক ডাকাতির ঘটনাসহ সিলেট, হবিগঞ্জ জেলার অধিকাংশ ডাকাতির অন্যতম মূলহোতা একাধিক ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টধারী আসামি এই সাদ্দাম হোসেন প্রকাশ কাজল মিয়া। ডাকাত কাজলের নামে মৌলভীবাজার মডেল থানাসহ সিলেট জেলার ওসমানীনগর, জৈন্তাপুর, বিশ্বনাথ থানায়, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানায় ৬ টি ডাকাতি মামলাসহ খুন, চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র আইনের মামলাসহ সর্বমোট ১৪টি মামলা রুজু আছে। যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন ও তদন্তাধীন।

পুলিশ আরও জানায়, গত ১ মার্চ সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের কমলাকলস গ্রামের ছালিক মাষ্টার এর বাড়িতে যে ডাকাতির ঘটনা ঘটে তাতে কাজল নেতৃত্বে ছিল। উক্ত ডাকাতি সংঘটনের পর পর পুলিশের বিশেষ  অভিযানে পুলিশের সাথে ডাকাত দলের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে মোঃ কামাল হোসেন ওরফে বুলু নামের একজন ডাকাত নিহত হয় এবং অপর দুইজন ডাকাত গ্রেপ্তার হয়। ঘটনাস্থল থেকে সাদ্দাম হোসেন প্রকাশ কাজল মিয়া তাহার সহযোগী ডাকাতদের নিয়ে পালিয়ে যায়। সংগঠিত ডাকাতির ঘটনায় শতভাগ লুন্ঠিত মালামাল সহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি অস্ত্র, গুলি ও সিএনজি উদ্ধার হয়।

মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, কাজল ডাকাত শুধু ডাকাতিই করে তা নয় বরং সে নতুন নতুন যুবক ছেলেদেরকে তার দলে ভিড়ায়। যুবক ছেলেদের ট্রেনিং দিয়ে ডাকাতিতে দক্ষ করে তুলে। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করে এপর্যন্ত ১৪জন উঠতি ডাকাতের নাম পেয়েছি। তাদের দুধর্ষ ডাকাতির আতংকে থাকে মৌলভীবাজারসহ পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের বাসিন্দারা। তাদের গ্রেফতারের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে মৌলভীবাজারের জনসাধারন। এ গ্রেফতারের ফলে মৌলভীবাজারে ডাকাতির মতো ঘৃন্য কার্যক্রম অনেকাংশে নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এছাড়াও ডাকাত সাদ্দাম হোসেন প্রকাশ কাজলের সহযোগী অপর একজন ডাকাত সাহেলকে আথানগিরী এলাকা থেকে কে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।