রিমান্ডে পাপিয়া

ভিআইপিদের ব্লাকমেইলে ১২ রুশ তরুণী

প্রকাশ | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৩৪ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩:০৬

অনলাইন ডেস্ক

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী পাপিয়া ভিআইপিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে ১২ রুশ তরুণীকে ব্যবহার করতেন। তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা পাপিয়াকে উদ্ধৃত করে বলছেন, ভিআইপিদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও বিশেষ ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করে রাখা হতো। পরবর্তী সময়ে সেই ফুটেজ ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আদায় করা হতো মোটা অংকের টাকাও। এসব কাজে স্বামী সুমন চৌধুরী পাপিয়াকে সহায়তা করতেন।

বিমানবন্দর থানায় মঙ্গলবার দিনভর এই দম্পতিকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় ঘনিষ্ঠ অনেক ভিআইপির নামও প্রকাশ করেছেন এই দম্পতি। আর এসব তথ্য পেয়ে বিব্রত হচ্ছেন তারা।

এদিকে রাজনীতির আড়ালে বাংলাদেশে প্রথম অনলাইনভিত্তিক যৌন ব্যবসার প্ল্যাটফর্ম ‘এসকর্ট’ গড়ে তোলেন শামীমা নূর পাপিয়া। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সুন্দরী তরুণী সরবরাহ করা হতো। কয়েক বছর আগে ‘এসকর্ট’ গড়ে তোলা হলেও এরই মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিভাগীয় শহরেও।

‘এসকর্ট’ এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। রিমান্ডের প্রথম দিনেই জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছেন সদ্য বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগ নেত্রী।

কারা তাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, বিভিন্ন কমিটিতে বড় পদ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছেন এবং কারাই বা তার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন—সব তথ্যই এখন তদন্ত কর্মকর্তাদের হাতে।

জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম বলেছেন, যাদের সঙ্গে তার ‘বিশেষ সম্পর্ক’ রয়েছে। মূলত এসব নেতাই পাপিয়ার উপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে কাজ করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের সাবেক একজন এমপির সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন পাপিয়া।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পাপিয়ার অর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুদক পাপিয়া-সুমন দম্পতির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের খোঁজ নিতে রাজস্ব বোর্ডকে খুব শিগগিরই চিঠি দেবে বলে জানা গেছে। এই দম্পতির ব্যাংক হিসাব জব্দের জন্যও বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেবে দুদক।

দুদক বলছে, পাপিয়া থেকে সুবিধা নেওয়া রাজনৈতিক দলের নেতাদের তালিকা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তালিকা পাওয়ার পর তাদেরও নজরদারির আওতায় আনা হবে।

এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও পাপিয়া নিয়মিত কালীমন্দিরে যেতেন। শিব লিঙ্গেরও পূজা করতেন। পাপিয়ার এক হাতে পবিত্র কাবা শরিফের এবং অন্য হাতে মন্দিরের ছবি আঁকা রয়েছে। এটি অকপটে স্বীকারও করেছেন পাপিয়া।

পিডিএসও/হেলাল