শিশু অপহরণ : মুক্তিপণের টাকায় ফ্ল্যাট কিনতে চেয়েছিলেন তারা

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৪৪

অনলাইন ডেস্ক
১৬ মাসের শিশুকে অপহরণের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব

গাজীপুর মহানগরী থেকে বাসা ভাড়া নিতে এসে ১৬ মাসের শিশুকে অপহরণের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। অপহৃত শিশুর নাম শাহরিয়া ইসলাম আরাফ। অপহরণের ১০ ঘণ্টা পর মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব সদস্যরা।

যারা গ্রেফতার হলেন—জেরিন ইশরাত জুলি (২২), তারিন নুশরাত তুলি (১৬), আমিনুল ইসলাম (২৯) ও সুমন (৩০)। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে সোনার কানের দুল, ৪টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৮ হাজার ৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়। 

র‍্যাব ১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, গত ১৬ জানুয়ারি জেরিন ইশরাত জুলি শরিফপুরে আশরাফ আলীর (বাড়ির মালিক) বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য যায় এবং বাসা দেখে পছন্দ হয়েছে বলে জানিয়ে আসে। তার দুই দিন পর অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারি জেরিন ইশরাত জুলি, তার ছোট বোন তারিন নুশরাত তুলিসহ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সকাল ৮টায় আশরাফ আলীর বাসায় উপস্থিত হয়। বাসা ভাড়া বাবদ অগ্রিম কিছু টাকা দেবে বলে জানায় সে। এ সময় তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বাসা ভাড়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। আলাপচারিতার ফাঁকে জেরিন ইশরাত জুলি ও তারিন নুশরাত তুলি তাদের সঙ্গে নিয়ে আসা ঘুমের ওষুধ কৌশলে জুসের সঙ্গে মিশিয়ে আশরাফ আলী ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খাওয়ায়।

তিনি আরও জানান, ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত জুস খেয়ে পরিবারের সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়লে জেরিন ইশরাত জুলি ও তারিন নুশরাত তুলি ওই পরিবারের ১৬ মাস বয়সের শিশু শাহরিয়া ইসলাম আরাফকে অপহরণ করে পালিয়ে যায়। একইসঙ্গে তারা ওই বাসায় থাকা নগদ টাকা, সোনার অলংকার ও মোবাইল চুরি করে। এরপর ওই পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ সময় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পাশের বাসার লোকজন গিয়ে তাদেরকে কাছের হাসপাতালে ভর্তি করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিকেল ৪টায় পরিবারের সদস্যদের জ্ঞান ফিরলে তারা তাদের শিশু সন্তানকে খুঁজতে থাকে।

পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ওই শিশুটির মায়ের মোবাইল ফোন থেকে বিকেল সাড়ে ৫টায় তার পরিবারের কাছে অপহরণের কথা জানিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। অন্যথায় তাদের শিশু সন্তানের কিডনি বিক্রি করার পর হত্যার হুমকিও দেয় তারা।

র‍্যাব জানায়, এই ঘটনার পরে ওই অপহৃত শিশুর পরিবার সন্তানকে উদ্ধারের জন্য র‍্যাব ১-এর কাছে আইনগত সাহায্য কামনা করে। এরপর র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় র‍্যাবের একটি আভিযানিক দল ৫ ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকায় বিকাশে টাকা লেনদেনের সময় অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে, অপহৃত শিশুকে উদ্ধারসহ আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে।      

আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘ দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অপহরণ, চুরি ও ছিনতাইসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। তারা পরস্পর যোগসাজশে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশে শিশু আরাফকে অপহরণ করেছিল বলে স্বীকার করেছে। তারা পেশায় গার্মেন্টস কর্মী। তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল—যেকোনো উপায়ে বিপুল টাকা উপার্জন করে গাজীপুর শহরে একটি ফ্ল্যাট বাসা ক্রয় করে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবে। এই স্বপ্ন পূরণ করার জন্য তারা এই অপহরণ করেছে বলে স্বীকার করেছে। আর এই কারণে তারা ধনী পরিবারের শিশুকে টার্গেট করতো।

পিডিএসও/হেলাল