ভুল চিকিৎসায় নববধূর মৃত্যু

হাসপাতাল সিলগালা ও মালিক আটক

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৪৭

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নববধূর মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসন হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়েছে এবং হাসপাতালের মালিককে আটক করেছে।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পারভেজ হাসপাতালটি সিলগালা করে দেন।

এর আগে ভোর ৪টায় ভুল চিকিৎসায় মারা যান উপজেলার বড়াইগ্রামের রামেশ্বরপুর গ্রামের সবুজ হোসেনের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন (১৬)। তিনি বড়াইগ্রাম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। গত আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে তার বিয়ে হয়। সুমাইয়া একই উপজেলার নগর ইউনিয়নের গ্রামের রাহাবুল ইসলামের মেয়ে। আটককৃত হাসপাতাল মালিকের নাম আরশেদ আলী (৬৫)। তিনি একই উপজেলার মাঝগাও ইউনিয়নের নটাবাড়ীয়া গ্রামের মৃত অসিমউদ্দিনের ছেলে।

মৃতের মা মোমেনা খাতুন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় সুমাইয়ার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হলে তাকে বনপাড়া হেলথকেয়ার জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে ওই হাসপাতালে ডাক্তার সামিরা তাবাচ্ছুম সাথী (এমবিবিএস) এপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করেন। অবস্থার খারাপ হলে রাত ৩টার দিকে ওই ডাক্তার পুনরায় সুমাইয়াকে ইনজেকশন পুশ করেন এবং তার এক ঘণ্টা পর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সকালে রোগীর স্বজন পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অভিযোগ করলে ঘটনা তদন্তে আসেন বড়াইগ্রাম সার্কেল এএসপি হারুন-অর-রশিদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার পারভেজ। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয় ও মালিককে আটক করা হয়। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও নার্স পালিয়ে যান। পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার পারভেজ জানান, হাসপাতালটির কোনো কাগজপত্র ঠিক নাই। আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাই এবং পরীক্ষার যন্ত্রপাতি যথার্থ না থাকায় হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল