রসিদ দিয়ে চাঁদাবাজি হয় কারওয়ানবাজারে

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:১৬

হাসান ইমন

কারওয়ানবাজারের পেট্রোবাংলা ভবন থেকে নীড় জনতা টাওয়ার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের গাড়ি থেকে টাকা তুলছেন কয়েকজন। তারা রিকশাভ্যান থেকেও টাকা তুলছেন। এরা টাকা তুলছেন টোলের রসিদ দিয়ে। সিটি করপোরেশনের স্টিকারযুক্ত পোশাক পরে এই টাকা উত্তোলনের ‘অবৈধ’ ঠিকাদারও আছে। তাদের এই টাকা উত্তোলনকে চাঁদাবাজি বলছেন খোদ ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে কারওয়ানবাজারে কারপার্কিংয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র পড়লেও নানা জটিলতায় এই কারপার্কিং ইজারা হয়নি। পরে খাস আদায়ের মাধ্যমে গাড়ি পার্কিং থেকে টোল আদায় করা হয়। সর্বশেষ গত বছরেও কারপার্কিংয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। সেটিও নানা কারণে ইজারা দেওয়া হয়নি। ফলে জান্নাত ট্রেডার্স নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনের অগোচরে অবৈধভাবে রিকশা-ভ্যান, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস থেকে টাকা আদায় করছে।

দেখা যায়, ডিএনসিসি আঞ্চলিক অফিস ৫-এর সামনে এবং পেট্রোবাংলা ভবন থেকে নীড় জনতা টাওয়ার পর্যন্ত সড়কে দুই পাশে থাকা গাড়িগুলো থেকে টাকা আদায় করছে ৩ থেকে ৫ জন লোক। এছাড়া রিকশা ভ্যান থেকেও তারা টাকা তুলছেন। তাদের পরা পোশাকে সিটি করপোরেশনের স্টিকারযুক্ত পোশাক। এরা জান্নাত ট্রেডার্সের লোক বলে পরিচয় দিচ্ছেন। এরা কাঁচামাল/সবজি বোঝাই প্রতিটি ভ্যানগাড়ি বা খালি ভ্যান থেকে ১০ টাকা হারে টাকা আদায় করছেন। এছাড়া সবজি বোঝাই প্রতিটি রিকশা থেকে ১০ টাকা হারে আদায় করছেন। যারা সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন তারা হঠাৎই চমকে উঠছেন। অনেকে আবার তাদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়েছে। তবে সবাইকে টাকা দিয়ে কারওয়ানবাজার থেকে বের হতে হয়েছে। রিকশা-ভ্যান থেকে টাকা ওঠানে বিষয়ে জানতে চাইলে টাকা আদায়কারীদের মধ্যে এক কর্মী বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে গাড়ি থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। এখানে রিকশা-ভ্যান, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস থেকে টাকা টোল আদায় করা হচ্ছে।

টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান কে জানতে চাইলে তিনি জান্নাত ট্রেডার্স নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেন। রশিদে গাড়ির নাম থাকলেও রিকশা-ভ্যানের নাম উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও টাকা আদায় করার বিষয়ে এই কর্মী বলেন, নাম না থাকলে এগুলো থেকে টাকা উঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। তাই আমরা টাকা উঠাচ্ছি।

ভুক্তভোগী ভ্যানচালক রশিদ মিয়া বলেন, গত দুই দিন থেকে ১০ টাকা করে টাকা নিচ্ছে এসব কর্মীরা। ভ্যান গাড়ি রাখলেও এবং ভ্যানে করে কাঁচামাল পারাপার করলেও টাকা নিচ্ছে। টাকা কেন দিতে হবে জানতে চাইলে টাকা উঠানো কর্মীরা আমাকে উত্তর দেন, সিটি করপোরেশন টোল আদায়ের জন্য অনুমতি দিয়েছে। এখন থেকে টাকা দিতে হবে।

মগবাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা আবদুল লতিফ বলেন, রিকশায় করে সবজি নিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ সিটি করপোরেশনের এক লোক রশিদ দিয়ে বলল ১০ টাকা দেন। কেন জিজ্ঞেস করতেই ওই লোক বলেন, এখন থেকে মালামাল নিয়ে রিকশা যাতায়াত করলে ১০ টাকা টোল দিতে হবে।

টোল আদায়ের রশিদে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যানবাহন কারপার্কিং টোল রশিদ। কর অঞ্চল-৫, প্রতি ঘণ্টার টোল। সিভিল লিভ টু আপিল নং-৯৬৬/১৮, সিভিল লিভ টু আপিল নং ৯৩৬/১৮, রিট হাইকোর্ট ডিভিশন ৩৯৬০- আদেশ স্থিতি। পরিচালনায় জান্নাত ট্রেডার্স। স্থান কারওয়ানবাজার, তেজগাঁও ঢাকা। গাড়ি/ কারের টোল হার। প্রতি ঘণ্টায় ১৫ টাকা। ২ ঘণ্টায় ৩০, ৪ ঘণ্টায় ৬০, ৮ ঘণ্টায় ১২০ টাকা। অথচ রশিদে রিকশা-ভ্যানের কথা উল্লেখ নেই।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, গত বছর কারওয়ানবাজার কারপার্কিংয়ের ইজারা স্থগিত করা হয়েছে। এখন যারা টাকা (জান্নাত ট্রেডার্স) আদায় করছে তারা চাঁদাবাজি করছে। সিটি করপোরেশন এ প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়নি।

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, এ রকম অভিযোগ আরো আগেও এসেছে। এর জন্য অঞ্চল-৫ এবং পুলিশ, কাউন্সিলরকে চিঠি দিয়ে অবহিত করেছি। প্রয়োজনে আবার চিঠি দিয়ে সবাইকে এ বিষয়ে অবহিত করা হবে। আর আপনাদের সামনে পড়লে ধরিয়ে পুলিশে দেবেন।

পিডিএসও/হেলাল