ছেলেধরা সন্দেহে আটক ৮ নারী ছিনতাই চক্রের সদস্য

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৯, ২০:৫৬

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে ৮ নারীকে ধরা পড়ার পর জানা গেছে তারা সবাই ছিনতাই চক্রের সদস্য। পরে থানা পুলিশের কাছে তাদের সোপর্দ করা হয়েছে।

বুধবার কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় উপজেলা ডাকবাংলোর সামনে থেকে তাদের আটক করে স্থানীয় জনতা। 

আটককৃতরা হলো, বি-বাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার দরম-ল গ্রামের সেন্টু মিয়ার স্ত্রী পিংকি বেগম (২২), একই এলাকার বদরুল মিয়ার স্ত্রী মাফিয়া বেগম (২০), সোলমানের স্ত্রী খাইরুন (২৮), গোলাপ মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম (২০), জামান মিয়ার স্ত্রী খাদিজা (১৮), জালাল উদ্দিনের স্ত্রী পারুল বেগম (৩০), মন্নান মিয়ার স্ত্রী পারভীন বেগম (৩৭) ও কামরুল মিয়ার স্ত্রী অঞ্জনা বেগম (২৫)। তাদের মধ্যে পিংকির কোলে সাকিব নামের ৯ মাসের, খাইরুনের কোলে আলী নূর নামের দেড় বছরের ও পারুলের কোলে সারোয়ার নামের ৯ মাসের তিনটি শিশু ছিল। ওই নারীদের দাবি তারা তাদের সন্তান। 

প্রত্যক্ষদর্শী উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের উত্তরসোম গ্রামের হালিম মিয়ার ছেলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক দেলু মিয়া জানান,  বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ওই মহিলা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাত্রী নিয়ে আসেন। যাত্রী নামিয়ে দিয়ে পরবর্তী যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কমপাউন্ডে। এ সময় তিনি কমপ্লেক্স ভবনের সামনে ৪ নারীকে ঘুরাফেরা করতে দেখেন। পরে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে একটু ঘুরতে যান। সেখানেও চার নারীকে বাচ্চা কোলে ঘুরতে দেখেন।

এ সময় ওই ৪ নারীর মধ্যে এক নারীকে দেখে হাসপাতালের বহির্বিভাগের এক রোগী চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। এ সময় অন্য রোগীরাও তাকে ছেলেধরা সন্দেহে পাকরাও করে।

সন্দেহভাজন ওই নারীর এ অবস্থা দেখে বহির্বিভাগে ঘুরতে থাকা বাকি ৩ নারী ও বাইরে থাকা ৪ নারী তাকে উদ্ধার করেন। পরে তারা মাহেদ্র গাড়ি করে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ত্যাগ করার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে উপজেলার ডাকবাংলোর সামনে থেকে আটক করে ইউএনও অফিসে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের কালীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। 

সূত্র আরো জানায়, সন্দেহভাজন ওই নারীকে এর আগে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বর্ণের চেইন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গণধোলাই দেওয়া হয়। তাকে দেখেই স্বর্ণের চেইন হারানো ওই নারী চিৎকার-চেঁচামেচি করেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুবকর মিয়া বলেন, ইউএনও অফিস থেকে ফোন করে থানা পুলিশের কাছে ৮ নারীকে সোপর্দ করা হয়েছে। 

পিডিএসও/তাজ