স্বামীর বটির আঘাতে প্রাণ গেল স্ত্রীর

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৯, ১০:৩৬

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রতীকী ছবি

নওগাঁর ধামইরহাটে স্বামীর হাতে খুন হয়েছে এক গৃহবধু। পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রী সাবিনাকে ধারালো বটি দিয়ে পিটে সজোরে কোপ মারেন মাদকাসক্ত স্বামী নুর মোহম্মদ। পরে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহত সাবিনার ছোট ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘাতক স্বামী নুর মোহম্মদ পলাতক।

জানা গেছে, উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত রামরামপুর তেলিপাড়া গ্রামের নুর মোহাম্মদ প্রায় ৫ বছর আগে রাজশাহী কাঁটাখালী এলাকার বাখরাবাজ ইমামপাড়া গ্রামের মৃত নুরুল হুদার মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিনকে (৩৪) দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তাদের পরিবারে কোনো সন্তান নেই। সোমবার রাত পৌনে ৯টা দিকে নুর মোহম্মদ বাড়িতে ফিরে তার স্ত্রীকে দেখতে না পেয়ে সাবিনা বলে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় সাবিনা পাশের ননদ মলিদা বেগমের বাড়িতে ছিলেন। চিৎকার শুনে তিনি বাড়িতে এলে নুর মোহাম্মদ জিজ্ঞাসা করেন, ভাতের সাথে কি তরকারি রান্না করা হয়েছে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটির এক পর্যায়ে নুর মোহাম্মদ ধারালো বটি দিয়ে সাবিনার পিটে সজোরে কোপ দেন। এতে সাবিনার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। একই বাড়ির অন্য ঘরে অবস্থানরত নুর মোহম্মদের মা খাতিজা বেগম বিষয়টি টের পেয়ে মেরে ফেললো বলে চিৎকার করতে থাকেন। তাৎক্ষণিক প্রতিবেশি ও তার মেয়ে মলিদা বেগম ছুটে আসে।

এ ব্যাপারে মলিদা বেগম বলেন, ঘটনাস্থল বাড়িতে এসে দেখেন সাবিনার পিটের ক্ষত স্থান থেকে প্রচুর রক্তপাত হচ্ছে। তাৎক্ষণিক তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার সময় তিনি মারা যান। ঘটনার পর থেকে তার ভাই পলাতক। তিনি আরো বলেন, তার ভাই নেশাগ্রস্ত ছিলেন। পাশের আঙ্গরত গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাকারিয়া হোসেন বলেন, নুর মোহম্মদ মাঝে মধ্যে কৃষি কাজ করতেন। তবে তিনি বেশিভাগ সময় নেশাগ্রস্ত থাকতেন।

এ ব্যাপারে ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ জাকিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানসহ পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নিহতের ছোট ভাই বুলবুল হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তবে আসামী নুর মোহম্মদ পলাতক রয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল