পুলিশে চাকরির নামে তরুণী ধর্ষণ

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৯:৪৭

চট্টগ্রাম ব্যুরো

পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়া কথা বলে এক পোষাক কর্মীকে আটকে রেখে তিন দিন ধরে ধর্ষণের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেফতার এবং ধর্ষিতা তরুণীকে (২১) উদ্ধার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মহব্বত আলী (২৮) ও শাহাদাত হোসেন রাজু (৩১)।

মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানার ঝর্ণাপাড়া এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে ডবলমুরিং থানা পুলিশ।

ঘটনার শিকার তরুণীর বাড়ি রাঙামাটি জেলায়। তিনি নগরীর কর্ণফুলী ইপিজেডে এম এইচ গার্মেন্টস নামে একটি কারখানায় কাজ করেন বলে জানিয়েছেন নগরীর ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আশিকুর রহমান।

তিনি জানান, আক্রান্ত তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহির হোসেন জানান, আক্রান্ত তরুণীর এক পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। পরে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়। আনুমানিক দুই মাস আগে তরুণীর সঙ্গে শাহাদাতের পরিচয় হয়। তারা একসঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় বেড়াতে যায়। শাহাদাত তরুণীকে জানায়, তার সঙ্গে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় আছে। তরুণীকে সে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাইয়ে দেবে। এতে তাকে আর পোশাক কারখানায় চাকরি করতে হবে না। তার লাইফস্টাইল পাল্টে যাবে।

জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে শাহাদাত তরুণীকে নিয়ে নগরীর জেল রোডে আমানত শাহের মাজারে যায়। সেখানে শাহাদাত কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাকে জানায়, তার স্ত্রী মারা গেছে। মা-হারা দুই সন্তান নিয়ে সে খুব কষ্টে আছে। এজন্য শাহাদাতকে বিয়ে করার জন্য তরুণীকে অনুরোধ করে। শাহাদাতের কান্না দেখে তরুণী রাজি হয়। গত ৪ জুলাই শাহাদাত তরুণীকে নিয়ে নগরীর চৌমুহনী এলাকায় হক টাওয়ার নামে একটি হোটেলের ৪০৬ নম্বর কক্ষে ওঠে। সেখানে ৭ জুলাই পর্যন্ত আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করে শাহাদাত।

তিনি আরো জানান, ৭ জুলাই তরুণী শাহাদাতকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। তখন শাহাদাত হোটেলে মহব্বতকে ডেকে আনে এবং তরুণীকে তার বাসায় নিয়ে যেতে বলে। সেখানে তরুণীকে বিয়ে করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। মহব্বত নগরীর ডবলমুরিং থানার মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় একটি বাসায় তরুণীকে নিয়ে যায়। সেখানে তরুীকে একাধিকবার সে যৌন হয়রানি করে। তরুণী ৭ জুলাই রাতে কৌশলে ওই বাসা থেকে পালিয়ে নগরীর চকবাজারে নিজের বাসায় যান।

৮ জুলাই (সোমবার) সকালে তরুণী মহব্বতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার ফেলে আসা পোশাক ফেরত দিতে বলেন। মহব্বত তাকে ডবলমুরিং থানার ঝর্ণাপাড়া এলাকায় যেতে বলে। সোমবার সন্ধ্যার পর তরুণী গেলে তাকে নিয়ে ঝর্ণাপাড়ায় নাহার বিল্ডিংয়ের নিচতলায় একটি বাসায় ওঠে। স্থানীয় লোকজন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে মহব্বত তরুণীকে তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে নতুন বাসা ভাড়া নিয়েছে বলে জানায়। তরুণীকে বাসায় রেখে মহব্বত বাইরে যায়।

এই ফাঁঁকে মেয়েটি পুরো বিষয় বাসার আশপাশের লোকজনকে জানায়। তখন স্থানীয়রা ডবলমুরিং থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। ঝর্ণাপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে মহব্বতকেও আটক করে। রাতে মহব্বতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শাহাদাতকেও একই এলাকা থেকে আটক করা হয়।

পিডিএসও/হেলাল