কোথাও মিলছে না শিশুর নিরাপত্তা

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০৯:২৫

কাইয়ুম আহমেদ
প্রতীকী ছবি

বাড়ির আঙিনা, স্কুলের চার দেয়াল এমনকি নিজ ঘরেও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলছে না শিশুর। গেল দুই সপ্তাহে দেশজুড়ে কমপক্ষে ১৫টি যৌন অপরাধ ঘটেছে যার বেশিরভাগের শিকার শিশুরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, অবদমনের সংস্কৃতির কারণেই মানুষের মধ্যে এমন মানসিকতার বিকৃত রূপ দেখা যাচ্ছে। বাড়ছে ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ। এসব রোধে সমাজে সংস্কৃতি চর্চা যেমন বাড়াতে হবে তেমনি সহশিক্ষার প্রসারেও গুরুত্ব দিতে হবে। ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে পুলিশ বলছে এসব অপরাধ বন্ধে তৎপর রয়েছেন তারা। পাশাপাশি কিছু পর্যবেক্ষণও রয়েছে তাদের।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রাজধানীর ওয়ারীতে বাড়ির ভবনেই শিশু সামিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা, নারায়ণগঞ্জে স্কুলে ২০ ছাত্রী ও পরে মাদ্রাসায় ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির দায়ে দুই শিক্ষক গ্রেফতার। বরগুনায় আরেক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ। একের পর এক যৌন সহিসংতার ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে বাড়ি কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণ্ডিতেও কেন নিরাপদ নয় শিশু।

সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, একবারে নির্মূল হবে এটা বলব না হ্রাস পাবে। যদি জৈবিক ক্ষুধা নিবারণের জন্য সরকারি ব্যবস্থা থাকে অনেকটা কমবে। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, আমাদের দেশে যে সহশিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে সেক্সুয়াল হ্যারেজম্যান্ট হয় না। আমাদের এখানে খেলার মাঠ নেই। সরকারের উচিত বড় শহরে যত অ্যাপার্টমেন্ট হবে সেখানে একটা ফ্লোর শিশুদের খেলার জন্য রাখা।

বাংলাদেশে শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় কাজ করছেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ ডারা জনস্টন। তার মতে, প্রতিটি শিশু যাতে সুরক্ষিত এবং সব ধরনের সহিংসতা, নিগ্রহ ও অপব্যবহার থেকে মুক্ত থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। এই লক্ষ্যে কাজ করে ইউনিসেফ। বাংলাদেশের সব শিশুকে অবশ্যই যথাযথ দক্ষতা অর্জন করে নিরাপদে এবং উপযুক্ত পরিবেশে ইন্টারনেট ব্যবহারে সক্ষম হতে হবে। শিশুর অনলাইন সুরক্ষা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত পরামর্শ শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মো. সোহেল রানা বলেন, কয়েকটি ক্ষেত্রে সামাজিক অপরাধ বেড়েছে। একজন প্রফেশনাল ক্রিমিনাল না হয়েও শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থে ছোট খাটো অপরাধ করে। এ থেকে অনেক সময় বড় অপরাধ ঘটে যায়।

প্রসঙ্গত, দেশের ১২ লাখ শিশু-কিশোরকে অনলাইনে নিরাপদ থাকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে গ্রামীণফোন, টেলিনর গ্রুপ ও ইউনিসেফের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তি সই হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মা-বাবাদের সংবেদনশীল করে তোলাও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। ইন্টারনেটে শিশুরা কী ধরনের বিষয়বস্তুর সস্মুখীন হয়, তা নিয়ে ভীতির কারণে অনেক মা-বাবা তাদের সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে বাধা দেন। এটা শিশুদের ইন্টারনেট থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগকে ব্যাহত করে। শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় সহায়তা দিতে এই প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ মা-বাবা, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এই প্রকল্পে কীভাবে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয় সে বিষয়ে শিশু, তাদের মা-বাবা ও লালন-পালনকারীদের সচেতন করার বিষয়টি নিশ্চিত করবে ইউনিসেফ, গ্রামীণফোন ও টেলিনর। এরই মধ্যে দেশব্যাপী ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সি ৪ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী এবং ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষক, মা-বাবা ও লালন-পালনকারীদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা পদক্ষেপ ঘিরে আরো ভালো বোঝাপড়া, সচেতনতা ও সংবেদনশীলতা গড়ে তুলতে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল এবং একটি ইতিবাচক ডিজিটাল শিক্ষার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয়ই এটা গ্রহণ করতে পারে।

পিডিএসও/হেলাল