স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দিলো পুলিশ সদস্য

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৯, ১৬:২৮ | আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ১৭:০৯

অনলাইন ডেস্ক

মাদারীপুর পৌরসভার টিবি ক্লিনিক সড়কে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর ঘরের ভেন্টিলেটর দিয়ে বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোক্তার হোসেন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে।

নির্যাতিত ওই ছাত্রীকে রোববার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানায়, মাদারীপুর পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন দীর্ঘদিন থেকে শহরের টিবি ক্লিনিক সড়কে বাসা ভাড়া নিয়ে বাস করেন। কয়েকদিন আগে মোক্তারের গর্ভবতী স্ত্রী গ্রামের বাড়ি চলে যান। এই সুযোগে রোববার রাতে প্রতিবেশী এক স্কুলছাত্রীকে ঘরে ডেকে নেন তিনি। পরে দরজা বন্ধ করে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

এদিকে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন স্কুলছাত্রীকে ঘরের পেছনের ভেন্টিলেটর দিয়ে বাইরে ফেলে দেন। এতে ওই ছাত্রীর গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। 

ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী জানিয়েছেন, তিনি আমাকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিলে আমাকে তিনি ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেন। এতে আমার পা ভেঙে গেছে। এর আগে তিনি আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন। 

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মফিজুল ইসলাম লেলিন জানান, মেয়েটির পায়ের হার ভেঙে গেছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার সেরে উঠতে কমপক্ষে ৩ মাস সময় লাগবে।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। শুধু শুধু স্থানীয়রা ঘরের বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই মেয়ের সঙ্গে আমার কিছু হয়নি। 

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. বদরুল আলম মোল্লা বলেন, আমি সদর হাসপাতালে গিয়ে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করে এসেছি। মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের সকল আইনগত সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে এসেছি। যে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধেও আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী  ওই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লাকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পিডিএসও/তাজ