টানা ৪ দিন আটকে রেখে শিশু ধর্ষণ

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:২৫

অনলাইন ডেস্ক
ama ami

সাভারে চার দিন আটক রেখে এক শিশুকে (১২)ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এ বিষয়ে সাভার থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা হেলাল উদ্দিন।

গত সোমবার রাতে সাভার পৌরসভার নামা গেন্ডা এলাকা থেকে ভুক্তভোগী ওই শিশুকে তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। এর চার দিন পর গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে অচেতন অবস্থায় ওই শিশুকে বাসার সামনে ফেলে রেখে যায়। ওই শিশু স্থানীয় নূর ক্যাডেট স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

এদিকে গুরুতর আহত ওই কিশোরীকে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্যে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

ভুক্তভোগীর বাবা হেলাল উদ্দিন পেশায় রিকশা চালক। তিনি বলেন, ‘তিন মেয়ের মধ্যে সবার ছোট মেয়েটি সোমবার সন্ধ্যার পর বাসার সামনের দোকানে চিপস কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়।’

কিন্তু এ বিষয়ে সাভার থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তাদের নজরে আসে প্রতিবেশী মজিবরের ছেলে বিল্লাল হোসেনও নিখোঁজ। সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাদের পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করলে শুক্রবার রাত ১২টার দিকে অচেতন অবস্থায় ওই শিশুকে বাসার সামনে ফেলে রেখে যায় দুর্বত্তরা।

ভুক্তভোগী ওই শিশু জানান, ওই দিন রাতে বিল্লাল হোসেন দোকানের সামনে থেকে কথা আছে বলে সামনে ডেকে নেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেখানে অপেক্ষমাণ একটি মাইক্রোবাসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয় অজ্ঞাত স্থানে।

স্থানটি সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে না পারলেও সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ৪ ঘণ্টার মতো সময় লেগেছিল বলে জানান ওই শিশু।

ভুক্তভোগী ওই শিশু জানান, সেখানে নেওয়ার পর একটি বাড়িতে আটকে রেখে বিল্লালসহ দুজন তাকে ধর্ষণ করে। পরে অচেতন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১২টার দিকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা রুবিয়া খাতুন জানান, এ ঘটনার পর থানায় গেলেও তাদের অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি। এই সুযোগে এলাকার প্রভাবশালীরা বিষয়টি আপোস মীমাংসার জন্যে চাপ সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় স্কুলে শিক্ষক আব্দুল রাজ্জাক মাস্টার বলেন, ‘পুলিশ অভিযুক্তের বাবা মজিবরকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়। এখন উল্টো মামলা না করার বিষয়ে প্রভাবশালীরা হস্তক্ষেপ করছে।’

তবে দরিদ্র রিকশা চালক শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় পাবেন কি না তা নিয়েও নিজের সংশয়ের কথা জানান তিনি।

সাভার মডেল থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসপি) দুলাল রায় বলেন, ‘আমি সরেজমিনে তদন্ত করেছি। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেব থানায় না থাকায় পরে তাদের আসতে বলেছি।’

তবে সাভার মডেল থানার ওসি আব্দুল আউয়াল জানান, স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিডিএসও/রিহাব