স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ গুম, স্বামীসহ গ্রেফতার ২

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:১৪

গাজীপুর প্রতিনিধি
ama ami

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভাওরাইদ এলাকায় স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে গুমের ঘটনায় ২ সহযোগীসহ স্বামী শাহজাহান মিয়াকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১ এ তথ্য জানায়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- স্বামী জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থানা মন্ডলপাড়া এলাকার শাহজাহান মিয়া (২৮) এবং লাশ গুমের সহযোগী কুড়িগ্রাম বাজিবপুর থানার মদনের চর এলাকার খোকন মিয়া (২২) ও গাইবান্ধার সদরের চিথুলিয়া জিগু এলাকার মুকুল মিয়া (২৫)। 

র‌্যাব জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী শাহজাহান মিয়া গত ০৩ জানুয়ারি সকালে ভাওরাইদ উত্তরপাড়া এলাকায় স্ত্রী আফরোজা বেগমকে (২৬) শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর তার বন্ধু খোকন এবং মুকুলের সহায়তায় বাড়ির পাশে সেপটিক ট্যাংকে লাশ গুম করে যা পরবর্তীতে ৪ জানুয়ারি মধ্যরাতে জানাজানি হয় এবং সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১ তাৎক্ষনিকভাবে হত্যাকারী খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে দ্রুততার সাথে ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-১ ঢাকার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ডেমরা এলাকায় অভিযান ওই ৩ জনকে গ্রেফতার করে। 

র‌্যাব আরো জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে শাহজাহান জানিয়েছে ছোট বেলা তার বাবা মারা যাওয়ার কারনে সে ও তার মা জীবিকা নির্বাহের জন্য গাজীপুর চলে আসে। গাজীপুর প্রথমে রিকশা চালাত এবং পরে দীর্ঘদিন রাজ মিস্ত্রির কাজ করেছে। ৮ বছর আগে তারেক জিয়া সুতার মিলে কাজ করার সময় ভিকটিম আফরোজার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে তারা দুজন পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করে এবং তার দুলাভাই জবান আলীর বাসায় থাকা শুরু করে। 

২০১৬ সালে তার স্ত্রী সৌদি আরব যায় এবং ০৬ মাস আগে দেশে আসে। দেশে আসার পর তার স্ত্রী তার দুলাভাই জবান আলীর বাসায় থাকতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে তারা ভাওরাইদ এলাকায় জনৈক মাসুদ মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতে শুরু করে। শাহজাহান তার স্ত্রীকে বিদেশ থেকে অর্জিত টাকার হিসাব চাইলে স্ত্রী তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ শুরু হয়। 

গত ৩ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে পূর্ব ঘটনার জের ধরে কথা কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে মারামারি পর্যন্ত গড়ায়। এক পর্যায়ে শাহজাহান স্ত্রী আফরোজাকে গলা টিপে হত্যা করে। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাৎক্ষনিক সে লাশ খাটের নীচে লুকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে সে তার বন্ধু খোকন মিয়া ও মুকুলকে বিষয়টি অবগত করে এবং পরস্পর যোগসাজসে ৩ জানুয়ারি রাতে সেপটিক ট্যাংকে লাশ ফেলে দেয়। শাহজাহান ও খোকন লাশ বাসা থেকে নিয়ে যায় এবং মুকুল রাস্তা পাহারা দেয়। লাশ গুমে সহযোগীতার জন্য খোকনকে ৪ হাজার ও মুকুলকে আড়াই হাজার দেয় শাহজাহান। 

এদিকে মুকুল ও খোকন চিন্তা করে বিষয়টি যে কোনও সময় উৎঘাটিত হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে তারা ভয়ানক বিপদের সম্মুখীন হবে। তাই লাশ গুমের সহযোগীতার বিষয়টি গোপন করার জন্য মুকুল ও খোকন ৪ জানুয়ারি রাতে সেপটিক ট্যাংকে শাহজাহান স্ত্রীর লাশ গুম করার সময় দেখে ফেলার নাটক সাজায় এবং সকলকে ডেকে লাশ উত্তোলন করে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে শাহজাহান আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে পুলিশকে খবর দিলে এ বিষয়ে পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। 

পিডিএসও/অপূর্ব