ড. কামালের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মামলা

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:২৩

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার সময় এক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেনের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে দারুস সালাম থানায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীকে আসামি করে এ মামলা হয়। এতে বাদি হয়েছেন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক। তিনি ওই এলাকার সাবেক এমপি এসএ খালেকের ছেলে। অবশ্য ওই ঘটনায় এর আগে দারুস সালাম থানা পুলিশ বাদি হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

মামলার আসামিরা হলেন- দারুস সালাম থানা সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মো. ইসলাম, থানা ছাত্রলীগের নাবিল খান, থানা সেচ্ছাসেবক লীগের মো. বাদল, ১২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. সোহেল, দারুস সালাম থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ রাজন, সেচ্ছাসেবক লীগের জুয়েল, শেখ ফারুক, শাহআলী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জাকির ও সাধারণ সম্পাদক সৈকত, শাহআলী থানা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. রনি, শাহআলী থানা ছাত্রলীগের শাওন এবং একই থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল ইসলাম শুভ। বাদি এজাহারে আসামি হিসেবে ওই ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বলেন, অজ্ঞাতনামা আরও অনেক আসামি ঘটনার দিন রামদা, ছুরি, চাকু, রড হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

মামলার এজাহারে বাদি বলেছেন, ১৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন, ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, আ. স. ম রব, ড. রেজা কিবরিয়া, ঢাকা-১৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুস সালাম ও তিনিসহ মিরপুরের বিভিন্ন এলাকার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বের হচ্ছিলেন। শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ১নং গেটের সামনে আকস্মিকভাবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশ ও প্রত্যক্ষ মদদে ওই হামলা হয়। এতে জাতীয় নেতৃবৃন্দ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ গুরুতর আহত হন।

এজাহারে আহত ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বলা হয় তারা এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, শনিবার রাতে মামলার বাদি ও ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সেটি যাচাই করে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৫ ধারায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

দারুস সালাম থানার ওসি মো. সেলিমুজ্জামান জানান, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই মামলায় কোনো আসামি আটক বা গ্রেফতার করা যায়নি। তবে এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্তও চলছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রায় প্রতিদিনই অভিযোগ করা হচ্ছে, তাদের প্রচারণা ও গণসংযোগে হামলা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর এই প্রথম সরকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ঢাকার কোনো থানায় মামলা করলো বিএনপির প্রার্থী।

পিডিএসও/রিহাব