দেশের সবচেয়ে বড় গাড়ি চোর চক্র আটক

‘কেঁচো খুঁড়তে সাপ’

বেশি চুরি হয় অশোক লেল্যান্ড ট্রাক

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:০৮ | আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৫৩

সেখ জিয়াউল হক, রাজশাহী ব্যুরো

নারীসহ প্রাইভেটকার চোর চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রাজশাহী জেলা পুলিশ। রোববার ভোর ৪টার দিকে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি থানাধীন এলেঙ্গা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে একটি চোরাই প্রাইভেটকারসহ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রাজশাহী থেকে একটি ট্রাক চুরি হয়েছিল। সেটি খুঁজতে গিয়ে একে একে উদ্ধার হয় ১৪টি ট্রাক। উদ্ধার হয় একটি প্রাইভেটকারও। গ্রেফতার করা হয় সাত জনকে। এসব গাড়ি উদ্ধার ও গ্রেফতারকৃতদের সূত্র ধরে পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে যায়। এ অনুসন্ধানের ফলে আরও একটি চোরাই প্রাইভেটকার উদ্ধার হয়। গ্রেফতার করা হয় এক নারীসহ ৫ জনকে। পুলিশ বলছে, এটিই দেশের সবচেয়ে বড় গাড়ি চোর চক্র। এ যেন ‘কেঁচো খুড়তে গিয়ে সাপের সন্ধান।’

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ কলাকোপা গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে মামুন (২৩), চাঁদপুরের মতলবের নাওজান গ্রামের আলমাস মিয়ার ছেলে  টিটু (২৮), পিরোজপুরের কাউখালির মেঘপাল গ্রামের আবদুল কাশেম আকন্দের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩০), বগুড়ার ধুনটের শেহুলিয়াবাড়ি গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৩) ও ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার চরডাঙ্গা গ্রামের টিটুর স্ত্রী শারমিন ওরফে রাণী (১৯)। তারা সবাই গাড়ি চোর চক্রের সদস্য। থাকতেন ঢাকার সাভারে।

গ্রেফতারের পর রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ। তিনি জানান, গত ৬ জুন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা থেকে একটি ট্রাক চুরি হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি পুলিশ। তদন্ত করতে গিয়ে একের পর এক এসব গাড়ি উদ্ধার হয়েছে। চোর চক্রের সদস্যরা গ্রেফতার হয়েছেন।

এসপি শহীদুল্লাহ জানান, উদ্ধার হওয়া ট্রাকগুলোর প্রায় সবই অশোক লেল্যান্ড কোম্পানীর। এই কোম্পানীর ট্রাকের চেসিস নাম্বার পরিবর্তন করা সহজ হওয়ায় তারা এগুলোকেই টার্গেট করে। 

কোম্পানিটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাদের ৫২৯টি ট্রাক চুরি হয়েছে। তবে সিন্ডিকেটের মূলহোতা মনিরকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ প্রায় ৮০টি ট্রাক চুরির তথ্য পেয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই অশোক লেল্যান্ডের। এসব ট্রাক উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। 

এসপি বলেন, এটিই দেশের সবচেয়ে বড় গাড়ি চোর চক্র। এদের সঙ্গে বিআরটিএ’র অসাধু কিছু কর্মকর্তাও জড়িত আছেন। তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া মাত্র তাদেরও গ্রেফতার করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, প্রথমে প্রাইভেটকার চোর চক্রের সদস্যরা কোনও ভালো মানের প্রাইভেটকারকে টার্গেট করে। এরপর এক বা একাধিকবার ভাড়ায় বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে গিয়ে চালকের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করে। পরে সুযোগ বুঝে জুসের সাথে ‘পেইস’ নামের একটি অতিমাত্রার ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে খাইয়ে দেয়। সেটা খেয়ে চালক অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাদের মধ্যে একজন চালকের আসনে বসে গাড়ি চালাতে থাকে। তাদের সুবিধামত জায়গায় অজ্ঞান হওয়া ড্রাইভারকে ফেলে দেয় এবং মোবাইল ফোন নিয়ে চালু করে। যাতে মালিক পক্ষ ফোন দিলে ফোন রিসিভ করে বিভিন্ন কথা বলে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। তাদের স্থানে পৌঁছার পর ফোনটি ফেলে দেয়।

আসামিরা বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা হলেও ঢাকার সাভার এলাকায় পরস্পর যোগসাজোশ করে এমন চুরির ঘটনা ঘটাতো। চুরির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে। মামলাটি তদন্ত চলছে। এভাবে তারা কতগুলো গাড়ী চুরি করিয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, রাজশাহী জেলা পুলিশ মোট ১৪টি ট্রাক ও ২টি প্রাইভেটকার এরই মধ্যে উদ্ধার করেছে।

পিডিএসও/অপূর্ব