চট্টগ্রামে পূজা কমিটির নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে নেতা খুন

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:২৮ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩৬

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানা পূজা উদযাপন কমিটিতে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে কমিটির অর্থ সম্পাদক বিষু কুমার ধর খুন হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

শুক্রবার বিকেলে পাহাড়তলী থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম।   

তিনি জানান, পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজীব ধরের সঙ্গে সখ্যতা ছিল বিষুর। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদ বঞ্চিত শিমুল ধর পদ না পাওয়ার পেছনে বিষুকেই দায়ী করতেন। এ নিয়ে বিষুর সাথে বাক-বিতণ্ডাও হয়। মূলত এসব দ্বন্দ্বের কারণেই বিষুকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে শিমুল ধর ওরফে বাবু।  

আমেনা বেগম বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা ছিল। তবে এ ঘটনার একমাত্র চাক্ষুষ সাক্ষী ছিল ১৩ বছরের এক মেয়ে। তার সূত্র ধরেই, পাহাড়তলী থানা পুলিশ রাতেই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা এলাকায় খুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শিমুল ধর ওরফে বাবু নামে এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া বাবুও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা। বাবু দক্ষিণ কাট্টলীর গোপাল কৃষ্ণ ধরের ছেলে।

পাহাড়তলী থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বাসায় যাওয়ার পথে বিশুকে ছুরিকাঘাত করেন বাবু। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে স্বীকারোক্তি ও তার দেওয়া তথ্যমতে রক্তমাখা ছুরি এবং তার বসত ঘর তল্লাশী করে ঘটনার সময় তার পড়নে থাকা রক্তমাখা কাপড় জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবু পুলিশকে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দূর্গাপুজা উদযাপন কমিটি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে বিশুকে খুনের পরিকল্পনা করে সে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) মো. কামরুলইসলাম, পাহাড়তলী জোনের সহকারী কমিশনার পংকজ বড়ুয়া প্রমুখ।

পিডিএসও/এআই