রামেকে দালালি বাণিজ্য, গ্রেফতার ৪

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৫৩

বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে চার দালালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে রাজপাড়া থানা পুলিশের একটি দল তাদের গ্রেফতার করে। তবে গ্রেফতারকৃতরা তাদের সিন্ডিকেট প্রধানকে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কমিশন না দেওয়ায় তাদেরকে গ্রেফতার করানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকার ইনসান আলীর ছেলে সুমন হোসেন (২৫), চন্ডিপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে শিশির (২৪), কয়েরদাড়া বিলপাড়া এলাকার সোনাল হোসেনের ছেলে রাজিব (২৫) ও হরিপুর এলাকার রইচ উদ্দিনের ছেলে মাসুদ রানা (২৭)।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ভাল চিকিৎসা দেওয়ার নাম করে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে যেতো। এরপর নাম সর্বস্ব ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা ও পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছিলো। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
 
নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এ হাসপাতালে প্রায় দেড়শ’ দালাল রয়েছে। এরমধ্যে পলাশ ফার্মেসী ও আল্ট্রাপ্যাথ ক্লিনিকেরই ১০৭ জন রয়েছে। যার মধ্যে ১৮জন রয়েছে মহিলা দালাল। 

অভিযোগ মতে, ‘হাসপাতাল পুলিশ বক্স ও হাসপাতালে কর্মরত আনসার বাহিনী এবং লক্ষ্মীপুর পুলিশ বক্সের সাথে মাসোহারা চুক্তিতে এসব দালালরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। যে কারণেই নিরাপদে দালালি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা। তবে চুক্তির বাইরেও মাঝে মধ্যেই খুশি করতে হয় পুলিশ বক্স প্রধানকে। নয়তো, ধরে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে মাঝে মধ্যেই তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।’
 
‘এছাড়াও চুক্তির বাইরে প্রতিদিন টোকেন মানি হিসেবে প্রতিজনের কাছ থেকে শতকরা ২০ শতাংশ কেটে নেয় সিন্ডিকেট প্রধান পলাশ।’ যেটার প্রতিবাদ করাতেই তাদের ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও ওই সূত্রের দাবি। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে দালাল সিন্ডিকেট প্রধান পলাশ। 

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র সিনিয়র সহকারি কমিশনার ইফতে খায়ের আলম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ‘ভাল চিকিৎসা দেওয়ার নাম করে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের ভাগিয়ে যারা নিয়ে যাচ্ছে তাদের ধরে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। তবে এসব দালালদের সাথে সখ্যতার বিষয়টি জানা ছিলনা। যেহেতু জানলাম, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


পিডিএসও/এআই