‘খাট’ মাদকের চোরাচালান থামছেই না!

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবারও ২০ কেজি ‘এনপিএস’ বা ‘খাট’ পাতা হিসেবে পরিচিত মাদক জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। দেশে নতুন এই মাদকটি আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার গাঁজা নামেও পরিচিত। এ নিয়ে দুই হাজার কেজিরও বেশি মাদক জব্দ হলো।

গতকাল শনিবার বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার জানান, এবার গ্রিন টির নামে প্রায় ২০ কেজি ‘এনপিএস’ বা ‘খাট’ জব্দ করা হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মনিপুরিপাড়ায় শাহনুন করপোরেশনের নামে এই চালানটি এসেছে। ইথিওপিয়ার জামেরা ট্রেডিং থেকে আদ্দিস আবাবা এই চালানটি পাঠিয়েছে।

তিনি আরো জানান, চালানটি ভারত ঘুরে জেড এয়ারওয়েজের মাধ্যমে শাহজালাল বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিসে আসে। পরে গোপন তথ্যে অভিযান চালিয়ে চালানটি জব্দ করা হয়।

এর আগে গত শুক্রবারও শাহজালাল বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিস থেকে ‘এনপিএস’ বা ‘খাট’ মাদকটির ১২০ কেজির একটি চালান জব্দ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। গ্রিন টি হিসেবে আমদানি করা ৬ কার্টনে ভরা ১২০ কেজি ওজনের চালানটিও কারাবন্দি আমদানিকারক মোহাম্মদ নাজিমের প্রতিষ্ঠানের নামেই আসে।

এর আগেও তার নামে বেশ কয়েকটি চালান এসেছে। গত ৩১ আগস্ট বিমানবন্দর ও শান্তিনগর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রথমবারের মতো ৮৬১ কেজি ‘এনপিএস’সহ আমদানিকারক মোহাম্মদ নাজিমকে গ্রেফতার করে ডিএনসি। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই এনপিএসের চালান জব্দ করা হচ্ছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে ১৬০০ কেজি ‘খাট’ জব্দ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এটি এখন পর্যন্ত নতুন মাদক ‘খাট’ জব্দের সবচেয়ে বড় চোরাচালান। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরের কার্গো ইউনিটের ফরেন পোস্ট অফিস থেকে প্রায় ১৩৫ কেজি ‘খাট’ জব্দ করে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)। গত ৮ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে ঢাকা কাস্টম হাউস ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার যৌথ অভিযানে ১৬০ কেজি ‘খাট’ জব্দ করা হয়।

ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, ‘এনপিএস’ বা ‘খাট’ মাদকটি দেখতে অনেকটা চায়ের পাতার গুঁড়োর মতো। পানির সঙ্গে মিশিয়ে তরল করে এটি সেবন করা হয়। এর প্রতিক্রিয়া অনেকটা ইয়াবার মতো। এক ধরনের গাছ থেকে এই ‘খাট’ বা এনপিএস’ তৈরি হয়। এটি ‘খ’ ক্যাটাগরির মাদক। আফ্রিকার দেশ জিবুতি, কেনিয়া, উগান্ডা, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া ও ইয়েমেনে এসব গাছ পাওয়া যায়। এই নেশাদ্রব্যটি আফ্রিকার দেশগুলোতে অনেক আগে থেকেই প্রচলিত।

তবে ইদানীং বিভিন্ন দেশে হেরোইন বা ইয়াবার মতো মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই ভেষজ নেশার পাতা। এই নেশাদ্রব্য যৌন উদ্দীপনা বাড়াতে বা দীর্ঘ সময় জেগে থাকতে সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়। তবে এটি সেবনে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পিডিএসও/তাজ