মাধবপুরে আলোচিত রিমা হত্যার রহস্য উম্মোচন

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:০১

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে আলোচিত রেহেনা আক্তার রিমা (৩০) হত্যা ঘটনার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। উচ্চস্বরে কথা বলায় প্রেমিক শিপন মিয়া তার ২ বন্ধুসহ রিমাকে হত্যা করে লাশ পার্শ্ববর্তী একটি শশা ক্ষেতের জমিতে পুতে রাখে। 

শনিবার সন্ধ্যায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে প্রেমিক শিপন মিয়া হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তারের খাস কামরায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মাধবপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এসএম রাজু আহাম্মেদ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় জবানবন্দির সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদ সম্মেলন করেন। 

শুক্রবার বিকেলে ঘাতক শিপন মিয়াকে মাধবপুর উপজেলার খাটুরা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে মাধবপুর থানা পুলিশ। উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলানগর গ্রামের একটি শশা ক্ষেত থেকে ১৩ জুন সকালে মাধবপুর থানা পুলিশ একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে লাশের পরিচয় ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ।  

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আওয়াল মিয়ার স্ত্রী তার বাবার বাড়ি পার্শ্ববর্তী রাজাপুর গ্রামে বসবাস করত। মায়ের সঙ্গে অভিমান করে  প্রায় ৪ মাস আগে গাজীপুরে একটি গার্মেন্টে চাকুরি নেয়। গাজীপুর যাওয়ার আগে উপজেলার চৌমুহনী বাজারের এক দোকানে পরিচয় হয় কমলানগর গ্রামের শাহেদ মিয়ার ছেলে শিপনের সঙ্গে। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ৮ জুন রিমাকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসার জন্য রিমা  শিপনকে ফোন করে। শিপনকে গাড়িভাড়া বাবদ বিকাশে ১ হাজার টাকা দেয় রিমা। 

টাকা পেয়ে শিপন ঢাকা গিয়ে রিমাকে নিয়ে ৯ জুন সন্ধ্যায় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। গভীর রাতে তারা একটি অটোরিক্সা (সিএনজি) যোগে মাধবপুর থেকে শিপনের গ্রামের বাড়ি কমলানগর যায়। সেখানে একটি নির্জন স্থানে প্রেমিকা রিমাকে রেখে তার অপর দুই বন্ধুকে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে ৩ বন্ধু মিলে রিমার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইলে রিমা উচ্চস্বরে কথা বললে প্রেমিক শিপন প্রথমে তাকে গলা চেপে ধরে। শিপনের বন্ধু লাঠি দিয়ে রিমাকে মাথায় আঘাত করে। 

এতে রিমা জ্ঞান হারিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। একজন সহযোগী রিমার ওড়না দিয়ে তার হাত, পা বেধে ফেলে। অপরজন বাড়ি থেকে কোদাল এনে পার্শ্ববর্তী শশা ক্ষেতে গর্ত করে রিমার দেহ পুতে রাখে। এর আগে শিপনসহ তার ২ বন্ধু রিমার শরীর থেকে কানের দুল, নাকফুল, হাতের আংটি খুলে নেয়। রিমার ২ টি মোবাইলও তারা নিয়ে যায়। 

গত ১৩ জুন স্থানীয় লোকজন শশা জমিতে একটি গর্তের ভিতর মানুষের হাত দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শাহ আলম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত করে পুলিশ নিশ্চিত হয় এটি রিমার মৃত দেহ। 

হত্যাকান্ডের পর থেকেই শিপন গাঢাকা দিয়েছিল। তখন থেকেই পুলিশ শিপনকে সন্দেহের তালিকায় রাখে। পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত হয় ঘটনার সঙ্গে শিপন জড়িত রয়েছে। 

গোপন সুত্রে খবর পেয়ে পুলিশ শুক্রবার বিকেলে উপজেলার খাটুরা গ্রাম থেকে শিপনকে গ্রেফতার করে। শনিবার বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামরুল হাসান ঘাতক শিপনকে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তারের খাস কামরায় হাজির করলে ঘাতক শিপন হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বনর্না করে জবানবন্দি দেয়। 

মাধবপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এসএম রাজু আহাম্মেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন অপর দুই ঘাতককে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। 


পিডিএসও/এআই