মোংলায় বনবিভাগের রেস্ট হাউস ও লঞ্চে অনৈতিক বাণিজ্য

পশুর নদীর পাড়ের বানীশান্তা পতিতাপল্লীর যৌনকর্মীদের দিয়ে রেস্ট হাউস ও লঞ্চে দেহ ব্যবসা করে যাচ্ছেন প্রভাবশালীরা

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:২৪

মামুন আহম্মেদ, বাগেরহাট

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ফুয়েল জেটির রেস্ট হাউজ ও জেটিতে থাকা ‘বাঘ রক্ষী-১’ নামক বনবিভাগের নিজস্ব লঞ্চে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের দিয়ে চলে আসা দেহ ব্যবসার ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে বনবিভাগের কতিপয় কর্মচারী সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগও পাওয়া যায়।

ফলে এই লজ্জাজনক এ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন দায়িত্বশীল স্থানীয় বন কর্মকর্তারা। কর্মচারীদের চাকরি বাঁচাতে দায়সারা তদন্ত করছেন বলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের একজন বিএম (বোটম্যান) জানান, ‘বাঘ রক্ষী-১’ নামক বনবিভাগের নিজস্ব লঞ্চে গত রোববার ওই লঞ্চেরই লস্কর মো. চাঁন মিয়া চান্দু, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) স্পিড বোট ড্রাইভার মনিরুজ্জামান বদি, ফুয়েল জেটি রেস্ট হাউজের অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন, আরেক বোটের ড্রাইভার আবু ইউসুফ তপু খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মাজেদ সরদারের মেয়ে বৃষ্টির (২৫) সঙ্গে আপত্তিজনক অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়েন। এরপর বিষয়টি চারিদিকে জানাজানি হয়ে যায়।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শাহিন কবির গত সোমবার বিকেলে সরেজমিন তদন্ত করেন।

এ বিষয়ে মো. শাহিন কবির বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে দাখিলের পর তিনিই পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন। তবে এ বিষয়ে চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, আপত্তিকর ও লজ্জাজনক এ ঘটনার সঙ্গে পুরো বনবিভাগের মানসম্মান জড়িত, আমরা অফিসিয়ালভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি, দয়া করে কেউ কোনো নিউজ করবেন না। এই কর্মকর্তা আরো বলেন, এ বিষয়ে অভিযুক্ত বদি, আনোয়ার, চান্দু ও তপু বলেন, বৃষ্টি আমাদের দুঃসম্পর্কের বোন হয়। সে সুন্দরবন দেখার উদ্দেশে খুলনা থেকে আমাদের কাছে বেড়াতে এসেছে, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।

এ ছাড়াও এর আগে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) স্পিড বোট ড্রাইভার মনিরুজ্জামান বদি ও আনোয়ারের ফুয়েল জেটির রেস্ট হাউজের বাসভবন থেকে বানিশান্তা পতিতাপল্লীর যৌনকর্মী রুমা (২০), জাহানারা (৩৫) ও তানিয়া (২২) কে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয় লোকজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেস্ট হাউজের পার্শ্ববর্তী মসজিদ কমিটির এক সদস্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফরেস্টার বদি, আনোয়ার, সিরাজ, তপু ও চান্দু পার্শ্ববর্তী পশুর নদীর পাড়ের বানীশান্তা পতিতাপল্লীর যৌনকর্মীদের দিয়ে রেস্ট হাউজ ও লঞ্চে দেহ ব্যবসা করে যাচ্ছেন। তবে বিভিন্ন সময় বিষয়টি বনবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালেও তাদের কোনো দিন ব্যবস্থা নিতে দেখিনি।

এ ব্যাপারে ডিএফও মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি এবং এসিএফ শাহিন কবিরকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। তার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই আমি ব্যবস্থা নিব।

পিডিএসও/তাজ