স্বপ্না খুনের রহস্য উৎঘাটন

মাত্র ২ হাজার টাকার জন্য হত্যা

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:২২ | আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৩৯

আবুজার বাবলা, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আলোচিত স্বপ্না বেগম (৩৫) খুনের রহস্য ১৪ মাস পর উৎঘাটন করেছে পুলিশ। মাত্র ২ হাজার টাকার জন্য স্বপ্নাকে খুন করা হয়। খুনের অভিযোগে তার প্রেমিক আজাদ মিয়া (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

গত বছর ১ আগষ্ট শ্রীমঙ্গল থানাধীন সাইটুলা বস্তিতে স্বপ্না বেগম নামে এক মহিলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের বোন বাদী হয়ে নিহতের স্বামী আব্দুল গফুর মিয়ার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ স্বপ্না বেগমের স্বামী গফুর মিয়াকে গ্রেফতার করে। পরিদর্শক সোহেল রানা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তদন্ত শুরু করলেও গত  ১৪ মাসেও হত্যার কোন কুল কিনারা করতে পারেননি। 

৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই এলাকার হাবিব মিয়ার ছেলে আজাদকে গ্রেফতার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আজাদ পাওনা ২ হাজার টাকার জন্য স্বপ্নাকে হত্যার কথা স্বীকার করে। 

জিজ্ঞাসাবাদে আজাদ জানায়, প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে স্বপ্নার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে স্বপ্নার সাথে তার স্বামীর পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হলে আজাদ স্বপ্না ও তার দুই শিশু সন্তানকে তার বাবার বাড়ি রাজনগরে পাঠিয়ে দিতে সাহায্য করে। বিষয়টি জানার পর গফুর মিয়া আজাদের প্রতি ক্ষুদ্ধ হন। এর ৫ মাস পর স্বপ্নাকে নিয়ে আজাদ নারায়ণগঞ্জের আদমজী এলাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরী নিয়ে উভয়ই স্বামী স্ত্রীর ন্যায় বসবাস করতে থাকে। 

আজাদ আরো জানায়, এভাবে দেড় বছর কাটানোর পর স্বপ্নার স্বামীর বাড়ির লোকজনদের সাথে আপোষ করে আজাদকে ছেড়ে আবার স্বামীর বাড়ি শ্রীমঙ্গলে ফিরে আসে। পরে আজাদও চলে আসে। 

আজাদ আরও জানায়, গত বছরের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০ টায় আজাদ মিয়া কৌশলে স্বপ্নাকে ঘর থেকে বাহিরে একটি কাঠাল গাছের নিচে ডেকে নেয়। এসময় আজাদ তাকে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য পিড়াপীড়ি করে। স্বপ্না এতে রাজী না হওয়ায় আজাদ তার পাওনা ২ হাজার টাকা দাবী করে। স্বপ্না তা অস্বীকার করলে আজাদ স্বপ্নাকে গলাটিপে হত্যা করে লাশ টেনে হিচড়ে ঘরের দরজার সামনে রেখে পালিয়ে যায় বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে স্বীকার করে।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল বলেন, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে আমরা অনেক চেষ্টা করেও এই আলোচিত হত্যার ক্লু বের করতে পারছিলাম না। একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি জেলে আটক স্বামী গফুর মিয়া নয়- আজাদ নামে তার প্রেমিক স্বপ্নার প্রকৃত হত্যাকারী। ১৪ মাস পর গত ৭ সেপ্টেম্বর আজাদকে আটকের পর আমরা হত্যা রহস্য উৎঘাটনে সক্ষম হই।

পিডিএসও/এআই