জাল সার্টিফিকেট দিয়ে লাইসেন্স

রাণীনগরে অভিযুক্ত ৬ দলিল লেখকের কার্যক্রম বন্ধ

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৫৭

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এসএসসি পাস না করে তৈরীকৃত (জাল) সার্টিফিকেট দিয়ে ৭জন দলিল লেখক লাইসেন্স করে দীর্ঘদিন যাবৎ দলিল লেখার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিত্বে নওগাঁ জেলা রেজিস্ট্রার গত ২৬ জুলাই রাণীনগর উপজেলায় কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করে ৩দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। কাগজপত্র যাচাই-বাচাই পূর্বক রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রার গত ১৮-২০ দিন আগে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।  

গত কয়েক দিন আগে থেকে অভিযুক্ত ৭জন দলিল লেখকের মধ্যে ১জন দলিল লেখককে বাদ রেখে আর ৬জন ভূয়া সার্টিফিকেটধারী দলিল লেখকের দলিল লেখার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে রাণীনগরে কর্মরত সাব-রেজিষ্ট্রার। কিন্তু রহস্যজনক কারনে অভিযুক্ত ৭জন দলিল লেখকের মধ্যে কোন ১জন দলিল লেখকের দলিল লেখার কার্যক্রম বন্ধের নিদের্শ দেওয়া হয়নি, তার নাম সাব-রেজিষ্ট্রী অফিস থেকে দেওয়া হয়নি। তবে অভিযুক্ত ৭জন দলিল লেখকের মধ্যে সনদ নং (৮৬) মো: রুঞ্জু হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমাকে সাব-রেজিষ্ট্রার স্যার দলিল লেখার কার্যক্রম বন্ধের নিদের্শ দেয়নি।

জানা গেছে, নওগাঁ জেলা রেজিস্ট্রার রাণীনগর উপজেলায় কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রুহুল আমীন সনদ নং (৯২), সাদেকুল ইসলাম সেলিম সনদ নং (৮৭), মিরাজুল ইসলাম সনদ নং(৭৩), ইলিয়াস সনদ নং (৮৫), এরশাদ আলী সনদ নং (৭৫), আব্দুল মতিন সনদ নং (৯৮) ও রুঞ্জু হোসেন সনদ নং (৮৬) এর শিক্ষাসনদসহ সকল কাগজপত্রাদি জমা নিয়ে যাচাই-বাচাই করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। অভিযুক্ত ৭জন দলিল লেখকদের মধ্যে ৬জন দলিল লেখক লাইসেন্স (সনদ) গ্রহন করার কয়েক বছর পরে এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট জমা দিয়েছে। আর ১জন দলিল লেখক লাইসেন্স করার অনেক আগের এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন। কিন্তু তার নাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে চাইলেও রহস্যজনক কারনে দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, আব্দুল মতিন, এরশাদ আলী ও ইলিয়াস এ ৩জন জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি লাল বিহারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় ভর্তি হয়ে ২০১৫ইং সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। পরীক্ষায় আব্দুল মতিন ও এরশাদ আলী কৃতকার্য হন। কিন্তু ইলিয়াস অকৃতকার্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

ওইসব ভূয়া সাটিফিকের্টধারী দলিল লেখকদের লাইসেন্স (সনদ) বাতিল করে নতুন করে আবার এসএসসি পাস করা সাটিফেকের্ট দিয়ে লাইসেন্স (সনদ) করে দেওয়ার জন্য দেনদরবার প্ররিপকল্পনা করে মোটা অংকের অর্থ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত ৭জনের মধ্যে দলিল লেখক সনদ নং (৮৬) মো: রুঞ্জু হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমি ১৯৯৫ সালে এসএসসি পাস করেছি। আর সেই সার্টিফিকেট দিয়ে ২০০৯ সালে দলিল লেখকের লাইসেন্স (সনদ) গ্রহন করেছি। আমি সেই সার্টিফিকেট সাব-রেজিস্ট্রার স্যারের কাছে জমা দিয়েছি। আর স্যার আমাকে দলিল লেখার কার্যক্রম বন্ধ করতে বলেনি।

এ ব্যাপারে রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, নির্দেশনামা পাওয়ার পর অভিযুক্ত ৭জন দলিল লেখকের কাগজপত্রাদি জমা নিয়ে যাচাই-বাচাই করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। ৬ জন এসএসসি পাসের আগেই দলিল লেখকের লাইসেন্স (সনদ) নিয়ে দলিল লেখার কাজ শুরু করেছিল। আর ১জন দলিল লেখক লাইসেন্স (সনদ) পাওয়ার অনেক আগের সার্টিফিকেট জমা দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছি, বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষই দেখবেন।

তিনি আরো বলেন, জেলা রেজিষ্ট্রার স্যারের নির্দেশে অভিযুক্ত ৭জন দলিল লেখকের মধ্যে ১জন দলিল লেখক তার লাইসেন্স (সনদ) গ্রহন করার অনেক আগের সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার তাকে বাদ রেখে আর লাইসেন্স (সনদ) গ্রহন করার অনেক পরের সার্টিফিকেটধারী ৬জন দলিল লেখকের দলিল লেখার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি।

রাণীনগর সাব-রেজিষ্ট্রারকে জিজ্ঞাসা করা হয়, অভিযুক্ত ৭জন দলিল লেখকের মধ্যে কাকে দলিল লেখার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়নি? তার নাম কি? তিনি তা বলেননি। তিনি শুধু বলেন, অভিযুক্ত ৭জন দলিল লেখকের মধ্যে লাইসেন্স (সনদ) গ্রহন করার অনেক পরের সার্টিফিকেটধারী ৬জন দলিল লেখকের দলিল লেখার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া বলে জানিয়েছেন তিনি। 

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা রেজিস্ট্রার সৈয়দ মজিবর রহমান বলেন, নোটিশের প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। আইনগত যে ব্যবস্থা সেটা গ্রহন করা হবে। এখন সেটা বলা যাবেনা। অপরাধ করলে তার শাস্তি পেতেই হবে।

পিডিএসও/ এআই