৩ ইউনিয়নে ১৪ দিনে ৪ নারী খুন, আতঙ্কে রাজবাড়ীবাসী

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৮, ২০:৫৩

খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার ৩টি ইউয়িনে ১৪ দিনের ব্যবধানে ৪ নারীকে জবাই করে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। প্রথম জোড়া খুনের কূলকিনারা হয়নি এখনও। ৪ জনকেই গলাকেটে খুন করায় আতঙ্কে রাজবাড়ীবাসী।

গত ৩ আগষ্ট আলীপুরের পাশের ইউনিয়ন মাত্র ৫শত গজ দূরুত্বে মূলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম মূলঘর গ্রামে দাদি ও নাতনিকে গলা কেটে খুন করে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন- দাদি শাহিদা বেগম (৫৫) ও নাতনি লামিয়া আক্তার (৭)। শাহিদা বেগমের স্বামীর নাম শাজাহান মিয়া। হত্যার আগে শাহিদা বেগমকে ধর্ষণ করা হয়েছিলো বলে জানায় পুলিশ। এই জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত শাহিদার ছেলে শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় আলীপুর ইউনিয়নের ওমর মেম্বারের বড় ভাই সহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে।

জোড়া খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই ৮ আগস্ট বানিবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া গ্রামে আদুরী বেগম নামে এক গৃহবধুকে গলা কেটে খুন করা হয়। নিহত আদরী বেগমের স্বামী মোঃ মিজানুর রহমান পেশায় রড মিস্ত্রি। তিনি কক্সবাজারের উখিয়ায় কাজ করেন। আদরী খুনের ঘটনায় স্বামী মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় আদরীর দেবর সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আলীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বারবাকপুর গ্রামের ২নং ওয়ার্ডে হাজেরা বেগম নামে এক নারীকেও জবাই করে খুন করা হয়।

নিহত হাজেরা বেগম ঐ গ্রামের কৃষক তমিজ উদ্দিন সেখের স্ত্রী। আহত পুত্রবধূ স্বপ্না হাজেরা বেগমের ছেলে মালোয়েশিয়া প্রবাসী হাফিজুল সেখের স্ত্রী।

নিহত হাজেরা বেগমের স্বামী তমিজ উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে রাতের খাবার ও টেলিভিশন দেখার পর হাজেরা বেগম পুত্রবধূ স্বপ্নার সাথে এক ঘরে ঘুমাতে যায়। রাত ১২টার দিকে স্বপ্নার চিৎকারে এগিয়ে গেলে দেখা যায় বিছানার উপরে হাজেরার গলাকাটা লাশ ও স্বপ্নার দুই হাতে জখম। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। কেন এমন ঘটনা ঘটলো সে বিষয়ে কিছুই বুঝতে পারছিনা। তবে পুত্রবধূ ঘটনার সময় পাশেই ছিলো সে বলছে কিছুই জানেনা। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে গেছে।

নিহত হাজেরা বেগম তিনি মালোয়েশিয়া প্রবাসী ছেলে হাফিজুল ছেলের স্ত্রী ও নাতির সাথে এক খাটে ঘুমিয়ে ছিলেন। তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। পাশে শুয়ে থাকা ছেলের বউ স্বপ্নার দুই হাত ও কাঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

প্রত্যেকটি ঘটনাই রাতে শোবার ঘরের মধ্যে ঢুকে গলা কেটে খুন করা হয়। 

রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর, মূলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম মূলঘর ও বানিবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া গ্রামে এই ৪টি খুনের ঘটনা ঘটে। এমন খূনের ঘটনায় রাজবাড়ীর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এর মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।

রাজবাড়ী সদর থানার (তদন্ত) ওসি আবদুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, ম্যাগনেট পাথরকে কেন্দ্র করে আদরীকে খুন করা হয়েছে। এর মধ্যে আদুরীর দেবরসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত এক আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বানিবহের গৃহবধূ খুনের ধরণ ভিন্ন হলেও মূলঘরের দাদি, নাতনি ও বারবাকপুরের হাজিরা বেগম খুনের ঘটনা একই রকম। এই দুই হত্যাকাণ্ডে ঘটনাস্থলও কাছাকাছি। আমরা খুনের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।’

আলীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন, ‘ঘরে ঢুকে পরপর গলা কেটে খুনের ঘটনা ঘটানোর কারণে, আমার ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কিরাজ করছে। মানুষ রাতে ঘুমাতে পারছে না। সবার মধ্যে একটি ভয় কাজ করছে। আমরা এই শঙ্কার মধ্যে থাকতে চাই না।

জেলা পরিষদের অন্যতম সদস্য মো: নাজমূল হাসান মিন্টু বলেন, প্রথম মূলঘর, বানিবহ ও আলীপুর ইউনিয়নে ৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এমন খূনের ঘটনায় রাজবাড়ীবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ এমন ঘটানার কারণে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। আমরা জনপ্রতিনিধি আমাদের কাছে মানুষ জবাব চায় এমন ঘটনা কেন ঘটছে।

তিনি বলেন, আশা করি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এই সকল খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে।

পিডিএসও/রিহাব