রাজধানীতে বাসচাপায় ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

চালকের পর বাসের মালিকও দোষ স্বীকার করলেন

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ১৭:২৭ | আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩০

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীতে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার মামলায় জাবালে নূর বাসের ঘাতক চালকের পর এবার বাসটির মালিক মো. শাহদাত হোসেন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সাত দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবীর কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি প্রদান করেন তিনি। এরপর আদালত মো. শাহদাত হোসেনকে কারাগারে পাঠান।

গত ২ আগস্ট এ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে বুধবার একই বিচারক চালক মাসুম বিল্লাহর দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

স্বীকারোক্তিতে মালিক শাহদাত হোসেন বলেছেন, তিনি জাবালে নূর পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের মালিক। তার ওই বাসের ড্রাইভার ছিলেন মাসুম বিল্লাহ। তিনি জাবালে নূর কোম্পানির সভাপতি মো. জাকির হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নোমান ও ডিএমডি অলি আহমেদের পূর্ব পরিচিত। তাদের অনুরোধেই মাসুমের ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই বাছাই ছাড়াই নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি ড্রাইভং লাইসেন্স যাচাই বাছাই না করে অনুপযুক্ত চালক নিয়োগ করায় গত ২৯ জুলাই জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের পাশে বাসে ওঠার অপেক্ষায় থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজীব নিহত হয়।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম এ আসামিকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।

এর আগে বুধবার মাসুম বিল্লাহ স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, জাবালে নূরের ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের চালক তিনি।

গত ২৯ জুলাই বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় আগে যাত্রী উঠানোর জন্য তিনটি বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছিলেন। ওই কারণে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৪-১৫ জন ছাত্রছাত্রীর ওপর গাড়িটি উঠিয়ে দিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের গুরুতর আহত করেন। পরে গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যান।
মামলায় বর্তমানে জাবালে নূরের অন্য মালিকের আরও ২টি বাসের চালক ও হেলপার মো. এনায়েত হোসেন (৩৮), মো. সোহাগ আলী, মো. রিপন হোসেন এবং মো. জোবায়ের রিমান্ডে রয়েছেন।

মামলায় বলা হয়, গত ২৯ জুলাই জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চালক ওই একই পরিবহনের আরও কয়েকটি বাসের সঙ্গে বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে যায়। এ সময় হোটেল রেডিসনের বিপরীত পাশে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের পাশে বাসে ওঠার অপেক্ষায় থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪ থেকে ১৫ জন ছাত্র-ছাত্রীর ওপর বাসটি উঠিয়ে দিয়ে চালক পালিয়ে যায়। এতে দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম রাজীব মারা যায়।

এরপর গত ২৯ জুলাই দিবাগত রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিহত একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম এ মামলা দায়ের করেন।

পিডিএসও/রিহাব