তিন স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা, ১ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৮, ১৯:০৭

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদী বাঁশেরবাদা বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ৩ ছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টার দুই দিন পর বর্ষা খাতুন নামে এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত বর্ষা খাতুন পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের চরসাহাদিয়ার গ্রামের কবির শেখের মেয়ে।

অন্য দুইজন একই গ্রামের তালেব হোসেনের মেয়ে ববিতা খাতুন (১৪) ও কুবের দাসের মেয়ে সঙ্গীতা দাস (১৪)। তিনজনের মধ্যে ববিতা ও সঙ্গীতা প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ হলেও বর্ষা অসুস্থ হয়ে পরলে পরিবারের লোকজন তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসার এক পর্যায়ে শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

বাঁশেরবাদা বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের চরসাহাদিয়ার গ্রামের একটি মাঠের মধ্যে তিন বান্ধবি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তবে কি কারণে তারা বিষপান করেছেন কেউই নিশ্চিত নয় বলে জানান ওই শিক্ষক।

ওই এলাকার পল্লী চিকিৎসক আব্দুস সালাম বলেন, ঘটনার পর পরই আমি তাদের চিকিৎসার জন্যে এলে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি এবং হাসপালে নিয়ে তিন জনেরই বিষমুক্ত করা হয়। বিষমুক্ত করার সময় বৃষ্টির অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী পাঠানো হয়।
বিষপানে আত্মহত্যা চেষ্টাকারী দুই শিক্ষার্থী ববিতা খাতুন ও সঙ্গীতা দাস বলেন, বিজ্ঞান ও অংক পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ায় তিন বান্ধবী যুক্তি করে বিষপান করেছিল।

বাঁশেরবাদা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। স্কুলে কোন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়নি। তবে তিন ছাত্রীর এক সাথে বিষপানের বিষয়টি ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এলাকায় প্রচার হয় যে, সেই তিন ছাত্রী এক ছেলের সাথে প্রেম করতো, ছেলেটি হঠাৎ এলাকা থেকে উধাও হলে তারা আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ ঠান্টু বলেন, আমি সেই দিনই লোক মুখে খবর পাই যে, একটি ছেলের সাথে ওই তিন মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ছেলেটিকে না পেয়ে তিনজনই বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। তবে ছেলেটির নাম পরিচয় কেউই জানাতে পারেনি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, স্কুলে পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় তিন বান্ধবী আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এখানে প্রেমের বিষয়টি আমাদের জানা নেই।

পিডিএসও/রানা