ঢাকায় রাস্তায় প্রকাশ্যে তরুণীকে ধর্ষণ, অতপর....( ভিডিও)

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৮, ১৬:১২ | আপডেট : ১০ জুন ২০১৮, ২২:০৭

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানী ঢাকায় রাস্তায় প্রকাশ্যে এক তরুণীকে ধর্ষণের সময় হাতে নাতে ধরা পড়লো এক বখাটে তরুণ। অতপর গণধোলায় দিল জনতা। প্রত্যক্ষদর্শী এক তরুণ তার ফেসবুকে এই ভিডিও আপলোড করে লিখেছে, আজ (শনিবার) অফিস থেকে ফেরার পথে মোহাম্মদপুর, কলেজ গেট সিগনালে ঠিক আমার সামনের গাড়িটাতে লক্ষ্য করে দেখি ভেতরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ধস্তা-ধস্তি করছে এবং গাড়ির ড্রাইভার এর গাড়ি চালানোর ভঙ্গিমা দেখে মনে হচ্ছিলো যে সে গাড়িটা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে । তবে দুর্ভাগ্য তাদের, রাস্তায় তীব্র জ্যাম থাকায় গাড়িটি বেশি দূর যেতে পারেনি। এমতাবস্তায় আমি আমার গাড়ি থেকে নেমে সামনে যেতে যেতে দেখি আরো কিছু লোক গাড়িটির দিকে লক্ষ্য করে এগুচ্ছে। তখনও ভাবতে পারিনি এতটা নিচ ও নিকৃষ্ট ঘটনার চাক্ষুষ প্রমান হতে যাচ্ছি।
রাফি আহমেদ নামক ওই তরুণটি লিখেছে, আমি গাড়িটির কাছে যেতেই দেখি ছেলেটি মেয়েটিকে ধর্ষণ করছে। গাড়ির দরজা খুলে প্রথমে আমরা মেয়েটিকে বাইরে বের করে নিয়ে আসি পরে অপর পাশের দরজা খুলতেই দেখি অতিপরিচিত সেই ছেলেটি অর্থাৎ বড়লোক বাবার বখে যাওয়া নষ্ট সন্তান। ছেলেটিকে বাইরে বের করতে গিয়ে সহ্য করতে হয়েছে বাজে মদের গন্ধ। আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না, অতঃপর বসিয়ে দিলাম ওই জানোয়ারের কানের নিচে আমার বাম হাতের পাঁচ আংগুলের চিহ্ন। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা চিলের মতো করে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাদের বাকি দায়িত্ব পালন করলো। পরে মেয়েটির কাছ থেকে জানতে পারলাম, ওই নর-পিচাশটা মেয়েটিকে রাস্তা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে এসেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ঘটনাকি কোন দিকে গড়ালো তা জানা যায়নি।
এদিকে আজ রোববার জানা যায়, ঘটনাটি শনিবার মধ্যরাতের। ঘটনার পর গণপিটুনির শিকার তরুণের নাম মাহমুদুল হক রনি (৩৫)। তাকে মদ্যপ অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন শেরেবাংলা নগর থানার ওসি গনেশ গোপাল বিশ্বাস। তিনি বলেন, মারধরের পরে রনি ও তার গাড়িটিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পথচারিরা। রনিকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তার মদ পানের নমুনা পাওয়া গেছে। 
থানায় মাহমুদুল হক রনি বলেন, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় যাওয়ার জন্য ধানমন্ডির ঝিগাতলার বাসা থেকে গভীর রাতে নিজ গাড়ি নিয়ে বের হন। গাড়ির মধ্যে তিনি মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করায় একটু বেসামাল ছিলেন। তার দাবি, এই বেসামাল অবস্থার সুযোগ নিয়ে তার গাড়িচালক সংসদ ভবনসংলগ্ন খেজুর বাগান এলাকা থেকে ‘দুই যৌনকর্মীকে’ গাড়িতে তুলেন। পুরো ঘটনাটি এক পথচারী ভিডিও করে তার ফেইসবুকে দিলে তা ভাইরাল হয়। তাতে মারধরের চোটে কাপড় ছিঁড়ে গেলে চালককে নগ্ন অবস্থায় দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে ওসি গনেশ বলেন, রাত আড়াইটার দিকে ওই ২ মেয়ের মধ্যে একজনকে কলেজগেইট এলাকায় নামিয়ে দিলে ওই মেয়ে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে পথচারীসহ সবাই এগিয়ে এসে গাড়িটি আটকায় এবং চালক ও রনিকে বেধড়ক মারধর করে। তিনি জানান, যে ২ মেয়ে তার গাড়িতে উঠেছিল তাদের এবং রনির গাড়িচালককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ধর্ষণের যে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে, তা ওই নারীদের পাওয়া না গেলে স্পষ্ট হবে না। তবে রনির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পিডিএসও/মুস্তাফিজ