মাথায় মল ঢেলে মাদরাসা সুপারকে লাঞ্ছনা

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৮, ১১:৪৭

অনলাইন ডেস্ক

মাদরাসার জমি দখলে বাধা দেয়ায় এবং পরিচালনা কমিটিতে জায়গা না পেয়ে বাকেরগঞ্জে এক মাদরাসার সুপারকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ সময় আবু হানিফ (৫০) নামের কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ওই সুপারের মাথায় মল ঢেলে দিয়ে তা ভিডিও করে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়।

বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নে শুক্রবার সকালে লাঞ্ছনার এ ঘটনার ভিডিও গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় মিঞ্জু হাওলাদার ও বেল্লাল হোসেনসহ দুজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। ঘটনার শিকার কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

আবু হানিফ সাংবাদিকদের জানান, ১১ তারিখ সকালে ফজরের নামাজ পড়ে ৭টার দিকে হাঁটতে বের হয়েছিলাম। তখন জাহাঙ্গীর মৃধা ও মাসুম সরদারের নেতৃত্বে অনেকে মিলে আমাকে রাস্তায় আটক করে লাঞ্ছিত করে। সামাজিকভাবে আমাকে অসম্মানিত করার জন্য ওরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আবু হানিফ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন তার পথ রোধ করে। এরপর একজন তার মাথার টুপি ও কাঁধের রুমাল খুলে নেয়। তখন আবু হানিফ তার মোবাইল ফোন বের করলে একজন এসে ফোনটি কেড়ে নেয়। অন্য আরেকজন তার হাত চেপে ধরে রাখে। তারপর পলিথিনে পেঁচানো একটা হাঁড়ি বের করে সেখান থেকে মল-মূত্র ঢেলে দেয় হানিফের মাথায়। এ সময় তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়—‘এইয়া নিয়া যদি বাড়াবাড়ি করো তাহলে তোর জীবন শেষ হইয়া যাইবে’। এরপর তাকে গালাগালি করে স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়।

এই ঘটনায় বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে আবু হানিফ। মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা নানাভাবে বিনা অনুমতিতে মাদরাসার জমিতে বিভিন্ন কার্যক্রম করে আসছিল। আমি এতে বাধা দিই। এ নিয়ে মামলাও চলছে। আমি মামলার বাদী। এ কারণে ওরা আমার উপর ক্ষিপ্ত। সেইসাথে মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদেও এই দলের লোক জাহাঙ্গীর জায়গা পায়নি। সভাপতি হয়েছেন এখানকার সংসদ সদস্যের মনোনীত ব্যক্তি। এসব করণে ওরা ক্ষেপে আমাকে নির্যাতন করেছে।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মাসুদুজ্জামান জানান, মামলা দায়েরের পর দুজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে মামলার বিবাদীদের নাম বলতে রাজি হননি এই পুলিশ কর্মকর্তারা।

পিডিএসও/হেলাল