ইউরোপের জাল ভিসা-পাসপোর্ট ও সরঞ্জামাদিসহ গ্রেফতার ৪

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৫৪ | আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৫৯

অনলাইন ডেস্ক

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জাল ভিসা, পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরির সরঞ্জামাদিসহ প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি কার্যালয়ে গ্রেপ্তার ৪ জনকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ডিএমপি ও ডিবি। এতে জাল চক্রটি সম্পর্কে এসব তথ্য দেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন। তিনি বলেন, সোমবার দিবাগত রাতে উত্তরা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. জিয়াউল হক জুয়েল, মো. জাকারিয়া মাহামুদ, মো. মাহবুবুর রহমান ও মোঃ মামুন হোসেন। 
আবদুল বাতেন জানান, তাদের হেফাজত হতে ১৪টি জাল সেনজেন ভিসাযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ব্যাংকের জাল হিসাব বিবরণী এবং ভিসা প্রস্তুতের বিপুল পরিমাণ মেট স্টিকার পেপার, নর্থ সাইপ্রাসে প্রেরণের জন্য জাল ইনভাইটেশন, ব্যাংক গ্যারান্টি, জাল ডকুমেন্টস প্রস্তুতের জন্য কম্পিউটারের সিপিইউ, ১টি মনিটর, স্ক্যানার ও প্রিন্টারসহ অন্যান্য এক্সেসরিজ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন যাবত জাল ভিসার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের হাতিয়ে নেয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে জাল সেনজেন ভিসা তৈরির বিপুল সরঞ্জামসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল সোমবার রাজধানীর উত্তরা থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন থেকে সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ও সাইপ্রাসে জাল ভিসার মাধ্যমে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইউরোপের সেনজেন ভিসা দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। ওই ভিসা করার জন্য দফায় দফায় প্রয়োজনীয় কাগজ নেওয়া হতো গ্রাহকের কাছ থেকে। ভিসা দেওয়ার পর গ্রাহকের কাছে ভিসার জন্য নেওয়া হতো মোটা অঙ্কের টাকা। ভিসা দিয়ে ভ্রমণের দিন ও ফ্লাইট নম্বর জানানো হতো। কিন্তু যখন ভ্রমণের তারিখ আসত, তখন তাকে ফোন করে বলা হতো, তার ভ্রমণের তারিখ বদলেছে। কিন্তু সেই বদলি তারিখ কবে, তা আর জানানো হতো না। এভাবেই গ্রাহককে জাল ভিসা দিয়ে প্রতারণা করত চক্রটি। 

পিডিএসও/মুস্তাফিজ