ভারতীয় শিক্ষার্থী আতিফ খুনে জড়িত স্বদেশী উইলসন : পিবিআই

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৮, ২০:১২

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে ভারতীয় শিক্ষার্থী আতিফ শেখ খুনের ঘটনায় তার স্বদেশী শিক্ষার্থী উইলসন সিং জড়িত বলে ডিএনএ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঢাকার সিআইডি ল্যাবের প্রতিবেদনের ফলাফল পেয়ে সোমবার এই তথ্য জানানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন আলামতের মধ্য থেকে পাঁচটি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ভাঙ্গা ছুরির দুই অংশে দুই ধরনের ডিএনএ পাওয়া গিয়েছিল। ছুরির ধারালো অংশে পাওয়া ডিএনএর সাথে অন্যান্য আলামতের ডিএনএর মিল পাওয়া গেলেও বাঁটে পাওয়া গিয়েছিল ভিন্ন একজনের ডিএনএ।

তিনি বলেন, পরে আদালতের নির্দেশে কারাগারে আটক সন্দেহভাজন দুই স্বদেশী শিক্ষার্থী উইলসন সিং ও নিরাজ গুরুর ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ছুরির বাঁটে পাওয়া ডিএনএর সাথে উইলসন সিংয়ের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। অপর স্বদেশী নিরাজ গুরুর ডিএনএ ছুরিতে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সন্দেহভাজন উইলসন সিংকে বার বার রিমান্ডে এনে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করেন পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ চাকমা। জিজ্ঞাসাবাদে উইনসন জানান যে, ঘটনার আগে পরে সব কিছু তার মনে থাকলেও ঘটনার সময়টুকু সে স্মৃতিচারণ করতে পারছে না। যার প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের অনুমতি নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে মতামত নেন। উক্ত মেডিকেল বোর্ড প্রতিবদন দিয়ে জানায়, উইনসন ইচ্ছাকৃতভাবে স্মৃতিচারণ করতে না পারার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে সন্তোষ চাকমা বলেন, সাক্ষীদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট, ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য অনুযায়ী মনে হচ্ছে উইলসন সিং তার সহপাঠী আতিফ শেখকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে এবং আবেগতাড়িত হয়ে নিজের কোমড়ের বেল্ট দিয়ে ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। ঘটনার মোটিভ জানার জন্য তাকে পুনরায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

এর আগে প্রসঙ্গত গত বছরের ১৪ জুলাই রাতে নগরের আকবর শাহ থানার আব্দুল হামিদ সড়কের ছয় তলা একটি ভবনের পঞ্চম তলার বাসায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হয় আতিফকে। ওই বাসা থেকে আতিফের সহপাঠী আরেক ভারতীয় উইলসন সিংকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার ওই ফ্ল্যাটের এক কক্ষে আতিফ ও আহত ভারতীয় ছাত্র উইলসন থাকতেন। ওই ফ্ল্যাটেই পাশের কক্ষে মেয়ে বন্ধুকে নিয়ে থাকেন আরেক ভারতীয় ছাত্র নিরাজ। নিরাজের মেয়ে বন্ধুও ভারতীয় এবং তারা সবাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউএসটিসির ছাত্র। এদের চারজনেরই বাড়ি ভারতের মণিপুরে। আতিফ শেখ হত্যার ঘটনায় আকবর শাহ থানায় মামলা করেন তার বাবা আব্দুল খালেক। এরপর নিরাজকে এ মামলায় গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। পরে মামলাটির তদন্তভার পেয়ে ঘটনায় জড়িত উইনসনকে গ্রেফতার করে পিবিআই।

পিডিএসও/রানা