তদন্ত শেষ হয়নি, বাদীপক্ষ হতাশ

চট্টগ্রামে স্কুলছাত্র হত্যার ১ বছর

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:২০

শরীফুল রুকন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে স্কুলছাত্র আহমেদ ওয়াসিনউন নুর আদেল হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হবে আগামীকাল। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার রাজাখালী মাস্টার কলোনি এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন আদেল। এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো ওই হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলার তদন্তকাজ শেষ হয়নি। তাই এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদীপক্ষ।

ইতোমধ্যে খুনের কারণ ও খুনি চিহ্নিত হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ ছয়জন গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু এদের মধ্যে কেউই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো অভিযোগপত্র (চার্জশিট) তৈরি হয়নি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অবশ্য দাবি করছে, তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

পুলিশ ও সিআইডি সূত্র জানায়, ওই হামলায় আদেলের বাবা বদিউল আলমও আহত হন। আদেল নগরের জামাল খান এলাকার চিটাগং আইডিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। তার আর তিনটি পরীক্ষা বাকি ছিল। হত্যাকাণ্ডের পরদিন তার মামা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় আলমগীর হোসেনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরো পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।

ঘটনার পরপরই আসামি মো. রুবেল ও বাবুলকে গ্রেফতার করে বাকলিয়া থানার পুলিশ। ৬ মার্চ মামলার প্রধান আসামি আলমগীর হোসেন ও মো. তুষারকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সর্বশেষ পারভেজ ও ওয়াসিম নামের আরো দুই আসামি গ্রেফতার হয় থানা পুলিশের হাতে। অবাক করা বিষয়, গ্রেফতার ছয় আসামির মধ্যে কেউই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

পুলিশ জানায়, রাজাখালী এলাকায় নিম্ন আয়ের লোকজনের জন্য কলোনি নির্মাণের কাজ করছিলেন বদিউল আলম। ঘটনার দিন নির্মাণ শ্রমিকদের সঙ্গে পাশের ভাড়াটে আলমগীরের ঝগড়া হয়। খবর পেয়ে সেখানে যান আদেল ও তার বাবা। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জন লোক বাবা ও ছেলের ওপর হামলা চালায়।

এ ঘটনার পর হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে আদেলের সহপাঠীরা বেশ কিছুদিন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ ঘটনায় প্রথমে বাকলিয়া থানার এসআই মো. বেলালকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর হয়। এরপর সিআইডির পরিদর্শক জামাল চৌধুরী মামলার তদন্তভার পান।

মামলার বাদী ও আদেলের মামা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন আসামি জামিনে রয়েছে। কেউ কেউ এখনো গ্রেফতারও হয়নি। তদন্ত নিয়ে আমরা হতাশ, আসামিদের নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি।’

তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা জামাল চৌধুরী বলেন, ‘তদন্ত শেষ পর্যায়ে আছে। সর্বশেষ গ্রেফতার হওয়া আসামি ওয়াসিমকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।’ সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিন জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তিনি পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছেন। শিগগিরই তদন্ত শেষ হবে।

পিডিএসও/হেলাল