শিক্ষকের নির্দেশে টমটম চালককে মেরে ফেলল শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:১০

অনলাইন ডেস্ক

কক্সবাজারে ভাড়ার টাকা নিয়ে তর্কের জের ধরে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধরে এক টমটম চালকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সদর উপজেলার ঝিলংজার মো. ইলিয়াছ মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত হোসাইনের নির্দেশে ওই কিশোরকে গত বুধবার বিকেলে পিটিয়ে আহত করে শিক্ষার্থীরা।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে মারা যায় টমটমচালক কিশোরটি। নিহত কিশোর আবদুর রহিম (১৬) ঝিলংজা ইউনিয়নের লিংকরোড বিসিক এলাকার মৃত শাকের উল্লাহর ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কুদরত উল্লাহ সিকদার জানান, গেলো ৭ ফেব্রুয়ারি ভাড়া নিয়ে তর্ককে কেন্দ্র করে মো. ইলিয়াছ মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত হোসাইনের সঙ্গে টমটমচালক আবদুর রহিমের তর্ক হয়।

এর জেরে টমটমচালক আবদুর রহিমকে বিদ্যালয়ে ধরে নিয়ে যান শিক্ষক শওকত। সেখানে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে কিশোরকে বেধড়ক মারধর করে শিক্ষার্থীরা।
এসময় টমটমটি ভাংচুর করে আটকে রেখে আহত অবস্থায় চালক আবদুর রহিমকে ছেড়ে দেয়া হয়। দুইদিন পর টমটমের মালিক দুই হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে টমটমটি ছাড়িয়ে আনেন।

নিহত আবদুর রহিমের মা তফুরা বেগম জানান, আহত আবদুর রহিমকে টাকার অভাবে হাসপাতালে নিতে পারেননি। বাড়িতে রেখে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক দিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হয়। মারধরে তার সারা শরীর জখম হয়।

গত পাঁচটা দিন খাওয়া-দাওয়া একদম করেনি আবদুর রহিম। শরীরের অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হয়ে সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মারা যায় রহিম।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কয়েক বার ফোন করা হয় মো. ইলিয়াছ মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত হোসাইনের মুঠোফোনে। কিন্তু তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, কিশোরটির শরীরে যে আঘাত রয়েছে তা মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট নয়। এরপরও মারধরে মারা গেছে বলে পরিবারের সন্দেহ। পরিবারের সন্দেহের প্রেক্ষিতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যাবে।

এদিকে, এ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় সাধারণ মহলে ব্যাপক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সবাই ওই শিক্ষকের কঠিন শাস্তি দাবি করেছেন।

পিডিএসও/রিহাব