কারচুপির অভিযোগে ভোট দিলেন না মেয়রপ্রার্থী বুলবুল

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০১৮, ১৮:১০

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ঘটেছে অভিনব ঘটনা। কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নিজেই ভোট দেননি। তবে ভোট দিয়েছেন বুলবুলের পাশে থেকে প্রচার চালানো সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু।

সোমবার সকালে বরিশাল, সিলেটের পাশাপাশি রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেই বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন প্রার্থীরা। তবে এদের মধ্যে ব্যতিক্রম বুলবুল। নিজে ভোট না দিয়ে কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন। বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে কারচুপির অভিযোগ তোলেন তিনি।

বেলা দুইটার পর বুলবুল নিশ্চিত করেন, তিনি ভোট দিচ্ছেন না। কারণ জানতে চাইলে তিনি তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে বলেন, এই বিপন্ন গণতন্ত্রে আমার পোলিং এজেন্টরা ভোট দিতে পারেনি, সেখানে আমার ভোট দিয়ে লাভ কী?

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যে দেশে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার অধিকার নাই। সেখানে আমার একটা ভোট দিয়ে কি হবে? আমার ভোটের গুরুত্ব কতটুকু? তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, এই কেন্দ্র থেকে আমার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ১৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি কেন্দ্রেই অনিয়ম চলছে। তারা বিএনপির মেয়র প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট এ্যাড. তোফাজ্জল হোসেন তপু প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দেন।

রাজশাহীর দুই আলোচিত মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আর বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দুইজনই রাজশাহী স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুল কেন্দ্রের ভোটার। সকাল আটটায় ভোট শুরুর পর পর কেন্দ্রে আসেন লিটন। ভোট দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। 

বুলবুল আসবেন, তার ভোট নিয়ে মতামত জানা যাবে, এ জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন গণমাধ্যমকর্মীরা। কিন্তু অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হতে থাকে। এক পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীরা যোগাযোগ করেন বুলবুলের ঘনিষ্টজনদের সঙ্গে। তারাও জানাতে পারেননি ধানের শীষের প্রার্থী কখন ভোট দিতে আসবে। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তিনি না আসার পর এই কেন্দ্র ছেড়ে অন্যত্র যান সাংবাদিকরা।

এরমধ্যেই খবর আসে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর বিনোদপুর এলাকায় ইসলামীয়া কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে মাটিতে বসে আছেন বুলবুল। তার অভিযোগ, এই কেন্দ্রে মেয়র পদে কোনো ব্যালট ছিল না। যদিও বুলবুলের অভিযোগ সত্য নয় জানিয়ে এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল কাফি বলেছেন, এটা ভুল বুঝাবুঝি। তারা বিএনপি নেতাকে বুঝানোর চেষ্টা করছেন।

বেলা আড়াইটার দিকে বুলবুল বলেন, বিকাল চারটা অবধি তিনি এখানেই থাকবেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তার ভোট দেয়া হবে না। জানতে চাইলে বলেন, তার ভোট দেয়ার ইচ্ছাও নাই। শেষ পর্যন্ত তিনি ভোট দেননি। জানতে চাইলে বুলবুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, প্রহসন চলছে। এই ভোটের দাম নাই। ভোট দিয়ে করব কী? সব জায়গায় ব্যালট পেপার ছিনতাই।

পিডিএসও/তাজ