৩ সিটিতে চলছে ভোটগ্রহণ

প্রকাশ | ৩০ জুলাই ২০১৮, ০৮:৫১ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০১৮, ১২:৫০

অনলাইন ডেস্ক
ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই বরিশালের একটি কেন্দ্রে নারী ভোটারদের লাইন

বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। জাতীয় নির্বাচনের পাঁচমাস পূর্বে অনুষ্ঠিত তিন সিটির ভোট বর্তমান কমিশনের অধীন বড় পরিসরে শেষ নির্বাচন। এই নির্বাচন নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে মেয়র পদের জয়-পরাজয় নিয়ে হিসাব-নিকাশ কষছেন।

গত ১৫ মে খুলনা এবং সর্বশেষ গত ২৬ জুন অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটির ভোট নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি বর্তমান কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। ফলে খুলনা ও গাজীপুর সিটির মতো নির্বাচন হবে নাকি শান্তিপূর্ণ ভোট হবে এ নিয়ে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা কাজ করছে। বিশেষ করে ভোটের দিনের পরিবেশ নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত নির্বাচনী এলাকার সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তিন সিটির প্রতিটি কেন্দ্রে এরই মধ্যে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে গেছে। নির্বাচনের দিন ভোট দেয়ার সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বরিশালে ১১টি, রাজশাহীতে দুটি ও সিলেটে দুটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। তিন সিটির ৩৯৫টি ভোটকেন্দ্রের ৩০৬টি কেন্দ্রেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তিনি সিটিতে মোট ভোটার ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৬জন।

তিন সিটি নির্বাচনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এ নির্বাচনে ভোটের আগের দুদিন থেকে ভোটের পরের দিন পর্যন্ত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন থাকছে।

তিন সিটির প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদেক আবদুল্লাহ (নৌকা), বিএনপির মজিবুর রহমান সরোয়ার (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ওবায়দুর রহমান মাহবুব (হাতপাখা), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবুল কালাম আজাদ (কাস্তে), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মণীষা চক্রবর্তী (মই), জাতীয় পার্টি-জাপা প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন (লাঙল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বশীর আহমেদ ঝুনু (হরিণ)।

রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন (নৌকা), বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শফিকুল ইসলাম (হাতপাখা),  স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ মোর্শেদ (হাতি) ও হাবিবুর রহমান (কাঁঠাল)।

সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দীন আহম্মদ কামরান (নৌকা), বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান (হাতপাখা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের-বাসদ আবু জাফর (মই) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসান মাহবুব জোবায়ের (টেবিল ঘড়ি), এহসানুল হক তাহের (হরিণ) ও বদরুজ্জামান সেলিম (বাস)। তিন সিটিতে ৫৩০ জন কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পিডিএসও/হেলাল